হাজার হাজার affidavit জমা দিয়ে কমিশনে বড় ধাক্কা অখিলেশের! নির্বাচন কমিশনকে ঘিরে তুলকালাম উত্তরপ্রদেশে

উত্তরপ্রদেশের রাজনৈতিক ময়দানে ফের একবার তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। সমাজবাদী পার্টির (এসপি) জাতীয় সভাপতি তথা রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অখিলেশ যাদব শনিবার সরাসরি ভারতের নির্বাচন কমিশন (ECI)-এর কাছে এক জোরালো ও কড়া দাবি পেশ করেছেন। তাঁর দলের পক্ষ থেকে সংগৃহীত হাজার হাজার শপথপত্র বা অ্যাফিডেভিটগুলির পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত করার জন্য তিনি কমিশনকে আনুষ্ঠানিকভাবে আহ্বান জানিয়েছেন। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স (X)-এ একটি বিশেষ পোস্টের মাধ্যমে অখিলেশ যাদব বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে নির্বাচন কমিশনের এই পদক্ষেপকে ‘একটি ভালো সূচনা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন এবং অবিলম্বে সমস্ত প্রমাণের ভিত্তিতে কঠোর আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের জোরালো দাবি তুলেছেন।
গতকালের এই চাঞ্চল্যকর বক্তব্যে এসপি প্রধান স্পষ্ট ভাষায় জানান যে, তাঁদের দল বিগত নির্বাচনগুলিতে হওয়া ব্যাপক নির্বাচনী কারচুপি, অনিয়ম এবং ভোট লুটের বিরুদ্ধে হাত গুটিয়ে বসে থাকবে না। বিভিন্ন ক্ষতিগ্রস্ত ভোটার এবং বুথের পোলিং এজেন্টদের কাছ থেকে সই করানো হাজার হাজার স্বাক্ষরিত হলফনামা বা এফিডেভিট সংগ্রহ করে তা নিখুঁতভাবে নথিবদ্ধ করেছে সমাজবাদী পার্টি। অখিলেশ যাদবের অভিযোগ, গত ২৩ অক্টোবর অনুষ্ঠিত এমএলসি (স্নাতক ও শিক্ষক কনস্টিটিউয়েন্সি) নির্বাচনে শাসক দল ভারতীয় জনতা পার্টি (BJP) প্রশাসনের সমস্ত ক্ষমতা ও যন্ত্রকে অপব্যবহার করে জালিয়াতি করেছে। ক্ষমতার অপব্যবহার করে সাধারণ ভোটারদের ভোটদানে বাধা দেওয়া হয়েছে এবং অনেক ক্ষেত্রে বলপ্রয়োগ করে তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছে বলে তাঁর দাবি।
অখিলেশ যাদব আরও বিস্ফোরক মন্তব্য করে জানান যে, সমস্ত ধরনের সরকারি ও প্রশাসনিক কারচুপি সত্ত্বেও আসন্ন নির্বাচনে ভরাডুবি থেকে বাঁচতে পারবে না শাসক দল। উত্তরপ্রদেশের শিক্ষিত সমাজ, বিশেষ করে শিক্ষক এবং স্নাতক ভোটাররা বর্তমান সরকারের জনবিরোধী নীতিতে চরম ক্ষুব্ধ এবং তারা ব্যালট পেপারের মাধ্যমে বিজেপির বিরুদ্ধে নিজেদের পুঞ্জীভূত ক্ষোভের বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে। আগ্রা, ফতেহপুর, ইটাওয়া, ঔরিয়াহা, মুজাফফরনগর, গাজিয়াবাদ এবং নয়ডার মতো গুরুত্বপূর্ণ জেলাগুলিতে নিজেদের নিশ্চিত পরাজয় বুঝতে পেরেই শাসক দল ও কিছু দুর্নীতিগ্রস্ত প্রশাসনিক কর্মকর্তা মিলে এই লজ্জাজনক ভোট চুরির পরিকল্পনা করেছিল। অখিলেশ যাদব সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন যে, দেশের সাধারণ মানুষ আজ রাজনৈতিক এই ভোট চুরির কৌশল সম্পর্কে সম্পূর্ণ সচেতন, আর সেই কারণেই সমস্ত অপচেষ্টা সত্ত্বেও জনগণ ব্যালটের মাধ্যমে তাদের যোগ্য জবাব দিয়ে দিয়েছে।