“ব্যক্তিগত রঞ্জিশ থেকে আক্রমণ করছেন কোরেশী!” ভোট কমিশন বিতর্কে মুখ খুললেন কানওয়াল সিব্বল

ভারতের নির্বাচন কমিশন (ECI) এবং বর্তমান মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের কার্যপ্রণালী নিয়ে প্রাক্তন প্রধান নির্বাচন কমিশনার এসওয়াই কোরেশীর ধারাবাহিক সমালোচনা সাম্প্রতিক সময়ে তীব্র বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। এই ইস্যুকে কেন্দ্র করে এবার প্রাক্তন পররাষ্ট্র সচিব কানওয়াল সিব্বলের সঙ্গে তাঁর প্রকাশ্য বাকবিতণ্ডা শুরু হয়েছে। কানওয়াল সিব্বল সরাসরি অভিযোগ করেছেন যে, কোরেশীর এই আক্রমণাত্মক মনোভাব কোনো শুভ উদ্দেশ্যে নয়, বরং এর পেছনে ব্যক্তিগত রঞ্জিশ বা হিসাব মেটানোর মানসিকতা কাজ করছে। এই ঘটনায় খোদ এসওয়াই কোরেশীর ভূমিকা এবং তাঁর অতীতের অবস্থান নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্নচিহ্ন তৈরি হয়েছে।

ঘটনার সূত্রপাত জুলাই ২০২৬-এর একটি সাক্ষাৎকারকে কেন্দ্র করে, যেখানে কোরেশী দাবি করেছিলেন যে তাঁর কার্যকালে তৎকালীন ইউপিএ সরকারের আমলে নির্বাচন কমিশন সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে কাজ করেছে এবং কেউ চাপ সৃষ্টি করার সাহস পায়নি। অথচ বর্তমানে তিনি খোদ সেই সাংবিধানিক সংস্থার স্বাধীনতা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে বারবার প্রশ্ন তুলছেন। কানওয়াল সিব্বল সামাজিক মাধ্যমে স্পষ্ট ভাষায় লিখেছেন যে, যখন এই সংক্রান্ত একটি মামলা ইতিমধ্যেই সুপ্রিম কোর্টের বিচারাধীন রয়েছে, তখন বাইরে থেকে নিজের মতো করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত প্রচার করা অত্যন্ত অনুচিত। সিব্বলের মতে, এই ধরনের আচরণ খোদ কোরেশীর নিজস্ব মর্যাদাকেও মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ণ করছে।

তবে সমালোচনার মুখোমুখি হয়ে গঠনমূলক উত্তর দেওয়ার পরিবর্তে এসওয়াই কোরেশী বিষয়টিকে ‘ট্রোলিং’ বলে উড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। তিনি কটাক্ষ করে বলেন যে তিনি বছরের পর বছর ধরে ‘দু’টাকায় বিক্রীত ট্রোল’-দের মুখোমুখি হয়ে আসছেন। এই মন্তব্যের পর বুদ্ধিজীবীমহলে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে যে, একজন বিশিষ্ট কূটনীতিবিদ বা প্রাক্তন সচিবের গঠনমূলক সমালোচনাকে স্রেফ ট্রোলিং বলে এড়িয়ে যাওয়া কতটা যৌক্তিক? সোশ্যাল মিডিয়ার বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে সাধারণ নাগরিক ও সমালোচকরা আরও এক ধাপ এগিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন যে, কোরেশী যখন নিজে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ছিলেন, তখন কেন ভোটার তালিকার বিশেষ তীব্র সংশোধন বা এসআইআর (SIR)-এর মতো জরুরি পদক্ষেপ জোরালোভাবে নেওয়া হয়নি?

বিশ্লেষকদের মতে, ভোটার তালিকার শুদ্ধিকরণ এবং কোনো যোগ্য নাগরিকের ভোটাধিকার যাতে খর্ব না হয়, তা নিশ্চিত করা গণতন্ত্রের সবচেয়ে বড় শর্ত। অতীতে ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারি মাসেও নির্বাচন কমিশন এসওয়াই কোরেশীর একটি নিবন্ধের কড়া জবাব দিয়ে জানিয়েছিল যে, তাঁর কার্যকালে আদর্শ আচরণবিধি লঙ্ঘনের বেশ কয়েকটি ঘটনায় যথাযথ আইনি পদক্ষেপ করা হয়নি। এছাড়াও তাঁর কিছু বিতর্কিত আদর্শগত দৃষ্টিভঙ্গি এবং পাকিস্তানের নির্বাচন সংক্রান্ত পূর্বের মন্তব্যগুলি নিয়েও সোশাল মিডিয়ায় তীব্র সমালোচনা চলছে। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে যেকোনো সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের সমালোচনা করার অধিকার সকলেরই রয়েছে, কিন্তু সমালোচকের নিজের অতীত রেকর্ড এবং সততা যখন প্রশ্নের মুখে পড়ে, তখন সেই উদ্দেশ্য নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হওয়াই স্বাভাবিক।