১৮৬১ সাল থেকে চলে আসা আমেরিকার মুদ্রার ইতিহাসে এক অভাবনীয় এবং বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসতে চলেছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তের পথে হাঁটছেন, যেখানে মার্কিন ডলারের গায়ে খোদাই করা থাকতে পারে খোদ প্রেসিডেন্টের নাম। হোয়াইট হাউসের অন্দরমহল থেকে পাওয়া খবর অনুযায়ী, মার্কিন কারেন্সি বা ফেডারেল রিজার্ভের নোটে বড় ধরনের সংস্কার আনতে চলেছেন তিনি।
আমেরিকার গৃহযুদ্ধের সময় অর্থাৎ ১৮৬১ সালে মার্কিন অর্থ বিভাগ প্রথম কাগজের মুদ্রা প্রচলন করেছিল। দীর্ঘ ১৬০ বছরেরও বেশি সময় ধরে সেই ঐতিহ্যে আমূল কোনো পরিবর্তন আসেনি। কিন্তু ট্রাম্প প্রশাসনের লক্ষ্য হলো আমেরিকার অর্থনীতিতে এক নতুন যুগের সূচনা করা। ট্রাম্পের এই পরিকল্পনা সফল হলে, ডলারের গায়ে কেবল প্রাক্তন রাষ্ট্রনায়কদের ছবিই নয়, বরং বর্তমান প্রশাসনের এক অনন্য ছাপ ফুটে উঠবে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এটি কেবল একটি মুদ্রাসংক্রান্ত পরিবর্তন নয়, বরং বৈশ্বিক অর্থনীতিতে আমেরিকার আধিপত্য এবং ট্রাম্পের নিজস্ব ব্র্যান্ডিংকে এক অন্য উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার প্রচেষ্টা।
ইতিমধ্যেই এই খবরটি নিয়ে বিশ্বজুড়ে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। সমালোচকদের মতে, মুদ্রার গায়ে নিজের নাম ব্যবহারের বিষয়টি মার্কিন ইতিহাসে আগে কখনো দেখা যায়নি। তবে ট্রাম্প সমর্থকদের দাবি, এটি আমেরিকার পুনর্জাগরণের প্রতীক। মার্কিন অর্থ বিভাগ বা ট্রেজারি ডিপার্টমেন্ট এই সংক্রান্ত আইনি দিকগুলো খতিয়ে দেখছে। যদি এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়, তবে তা হবে আমেরিকার অর্থনৈতিক ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ঘটনাগুলোর একটি। ডলারে ট্রাম্পের নাম থাকা মানেই তা আন্তর্জাতিক বাজারে এক নতুন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হওয়া। এখন দেখার বিষয়, ১৮৬১ সালের পুরনো নিয়মের বেড়াজাল ভেঙে ট্রাম্প কীভাবে এই ‘ঐতিহাসিক’ পরিবর্তন বাস্তবায়ন করেন।