ট্রেনে একা চলাফেরা করেন? উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলে ট্রেনের ভেতরে মহিলারা পাচ্ছেন রাজকীয় সুরক্ষা!

উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলওয়ের রেলওয়ে সুরক্ষা বাহিনী (আরপিএফ) ধারাবাহিক নজরদারি, নারীকেন্দ্রিক বিশেষ পদক্ষেপ এবং দ্রুত অভিযোগ নিষ্পত্তির মাধ্যমে যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এক অভূতপূর্ব দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। বিশেষ করে একা ভ্রমণ করা মহিলা, শিশু এবং অসহায় শ্রেণির সুরক্ষায় জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে আরপিএফ।
মহিলাদের জন্য চালিত ‘মেরি সহেলি’ উদ্যোগের অধীনে ২২টি গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনে বিশেষ টিম মোতায়েন করা হয়েছে। তাছাড়া প্রতিদিন গড়ে ৪৫টি ট্রেনে আরপিএফ কর্মীরা প্রহরা দেন, যার মধ্যে ১৩টি মেল বা এক্সপ্রেস ট্রেনে পুরুষ ও মহিলা আরপিএফ কর্মীদের সমন্বয়ে গঠিত মিশ্র এসকোর্ট টিম দায়িত্ব পালন করছে। মহিলা কামরায় অননুমোদিত প্রবেশের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিয়ে জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর মধ্যে রেলওয়ে আইনের ১৬২ অনুচ্ছেদে ২,৪৬৬ জন পুরুষকে আটক করা হয়েছে। পাশাপাশি, ‘জন বিশ্বাস আইন’-এর অধীনে ২১৯ জনকে আটক করে প্রায় ৪.৯ লক্ষ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে। আরপিএফের ‘মাতৃশক্তি’ টিমের সময়োচিত সহায়তায় চলতি বছরে রেল চত্বরে দুটি সফল সন্তান প্রসবের ঘটনাও ঘটেছে।
শুধু নারী সুরক্ষাই নয়, শিশু উদ্ধার ও মানব পাচার রোধেও আরপিএফ সাফল্য পেয়েছে। ‘নন্হে ফরিশতে’ অভিযানের মাধ্যমে ৫৯১ জন নিখোঁজ ও ঘরছাড়া শিশুকে উদ্ধার করা হয়েছে এবং পাচারের হাত থেকে ২২ জন উদ্ধারসহ ১০ জন পাচারকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এছাড়া ‘সিইআইআর’ পোর্টাল ব্যবহার করে ৩৫২টি চুরি যাওয়া মোবাইল উদ্ধার ও ২১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। রেল চত্বরে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির দায়ে ১,০২৩ জনকে আটক এবং জিনিসপত্র চুরির ঘটনায় ৩১৫ জন অপরাধীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক কপিঞ্জল কিশোর শর্মা জানিয়েছেন, যাত্রীদের নিরাপত্তা, নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ ও ‘রেল মদদ’-এর মাধ্যমে দ্রুত অভিযোগ নিষ্পত্তিতে আরপিএফ তাদের এই ধারাবাহিক অভিযান অব্যাহত রাখবে।