ট্রেনে আগুন লাগলে বা দুর্ঘটনা ঘটলে কত লাখ টাকা দেয় সরকার? রেলের এই গোপন নিয়মটি ৯৯% যাত্রীই জানেন না!

প্রতিদিন কোটি কোটি মানুষ ভারতীয় রেলের (Indian Railways) ওপর ভরসা করে গন্তব্যে পৌঁছান। দূরপাল্লার ট্রেন হোক বা লোকাল— রেল সফর সাধারণত নিরাপদ হলেও, দুর্ঘটনা বা রেলে আগুন লাগার মতো অনভিপ্রেত ঘটনা মাঝেমধ্যেই বুক কাঁপিয়ে দেয় সাধারণ যাত্রীদের। সাম্প্রতিক সময়ে বেশ কিছু ট্রেন দুর্ঘটনার পর দেশজুড়ে রেলের নিরাপত্তা এবং যাত্রীদের সুরক্ষার বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছে। কিন্তু আপনি কি জানেন, কোনো দুর্ঘটনার শিকার হলে ভারতীয় রেল যাত্রীদের মোটা অঙ্কের আর্থিক ক্ষতিপূরণ দিয়ে থাকে? এই বিমা বা ক্ষতিপূরণ পাওয়ার ক্ষেত্রে রেলের নির্দিষ্ট কিছু নিয়ম ও নির্দেশিকা রয়েছে।

টিকিট বুকিংয়ের সময় সামান্য একটু সচেতনতা বজায় রাখলেই যেকোনো বড় বিপদে সুরক্ষিত থাকা সম্ভব। রেলের সেই বিমা এবং ক্ষতিপূরণের নিয়মগুলো নিচে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো।

১. ট্রাভেল ইন্স্যুরেন্স বা রেল বিমার নিয়ম

অনলাইনে আইআরসিটিসি (IRCTC) অ্যাপ বা ওয়েবসাইটের মাধ্যমে টিকিট কাটার সময় যাত্রীদের ‘ট্রাভেল ইন্স্যুরেন্স’ (Travel Insurance) নেওয়ার একটি বিকল্প দেওয়া হয়। এর জন্য যাত্রীদের পকেট থেকে খরচ করতে হয় মাত্র ৪৫ থেকে ৫০ পয়সার মতো সামান্য কিছু টাকা। টিকিট কাটার সময় এই অপশনটি টিক (Tick) করলে, যাত্রার সময়ে কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে ওই যাত্রী বা তাঁর পরিবার সর্বোচ্চ ১০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত বিমার সুবিধা পেতে পারেন।

  • মৃত্যু বা স্থায়ী প্রতিবন্ধকতা: ট্রেন দুর্ঘটনায় কোনো যাত্রীর মৃত্যু হলে বা তিনি সম্পূর্ণ স্থায়ীভাবে প্রতিবন্ধী (Permanent Total Disability) হয়ে পড়লে বিমা কোম্পানি ১০ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দেয়।

  • আংশিক প্রতিবন্ধকতা: দুর্ঘটনায় আংশিক প্রতিবন্ধকতা বা অঙ্গহানি (Permanent Partial Disability) হলে মেলে সাড়ে ৭ লক্ষ টাকা।

  • হাসপাতালে ভর্তির খরচ: দুর্ঘটনায় আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হতে হলে চিকিৎসার খরচ বাবদ ২ লক্ষ টাকা পর্যন্ত দেওয়া হয়। পাশাপাশি ১০ হাজার টাকার জরুরি অ্যাম্বুলেন্স খরচও মেলে।

২. রেলে আগুন লাগলে বা টিকিট ছাড়া যাত্রীদের ক্ষেত্রে কী নিয়ম?

অনেকের মনেই প্রশ্ন থাকে, ট্রেনে আচমকা আগুন লাগলে বা কোনো যাত্রী যদি ওয়েটিং লিস্টের টিকিট নিয়ে ভ্রমণ করেন, তবে কি ক্ষতিপূরণ পাওয়া যায়?

রেলওয়ের নিয়ম অনুযায়ী, বৈধ টিকিট বা বৈধ পাস নিয়ে ভ্রমণকারী যেকোনো যাত্রীই রেল দুর্ঘটনার আওতাভুক্ত। ট্রেন লাইনে কোনো নাশকতা, রেলে আগুন লাগা বা দুটি ট্রেনের মুখোমুখি সংঘর্ষের মতো ঘটনায় যাত্রীরা হতাহত হলে রেলওয়ে আইনের ধারা ১২৪ (Section 124 of Railways Act) অনুযায়ী রেলওয়ে ট্রাইব্যুনাল ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ করে। এমনকি আইআরসিটিসি-র অতিরিক্ত বিমা না থাকলেও, রেলের নিজস্ব তহবিল থেকে মৃত বা আহত যাত্রীদের জন্য এককালীন অনুদান এবং চিকিৎসার খরচ ঘোষণা করা হয়।

৩. কীভাবে দাবি করবেন এই টাকা?

রেল দুর্ঘটনার পর ক্ষতিপূরণের টাকা দাবি করার জন্য ‘রেলওয়ে ক্লেমস ট্রাইব্যুনাল’ (Railway Claims Tribunal)-এ আবেদন করতে হয়। আইআরসিটিসি থেকে বিমা নেওয়া থাকলে, টিকিট কাটার পর মোবাইলে আসা লিংকে গিয়ে ‘নমিনি’ বা উত্তরাধিকারীর নাম নথিভুক্ত করা বাধ্যতামূলক। দুর্ঘটনা ঘটলে সংশ্লিষ্ট বিমা কোম্পানির কাছে প্রয়োজনীয় নথিপত্র, হাসপাতালের রিপোর্ট বা ডেথ সার্টিফিকেট জমা দিয়ে চার মাসের মধ্যে ক্লেইম বা টাকা দাবি করতে হয়। নথিপত্র যাচাইয়ের পর সরাসরি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পৌঁছে যায় ক্ষতিপূরণের টাকা।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy