প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্বাচনী সভায় গুলি চালানোর ঘটনায় সারা বিশ্বে তোলপাড় শুরু হয়েছে। তদন্তে উঠে এসেছে অপরাধীর নাম— কোল টমাস অ্যালেন। তবে এই যুবকের অপরাধ জগতের সাথে যুক্ত হওয়ার চেয়েও বেশি অবাক করেছে তাঁর শিক্ষা ও কর্মজীবনের অভাবনীয় তথ্য। এক শান্ত ও মেধাবী ছাত্র হিসেবে পরিচিত অ্যালেন কীভাবে এমন চরমপন্থী পথ বেছে নিলেন, তা নিয়ে গোয়েন্দারাও বিস্মিত।
অ্যালেনের শিক্ষা ও কর্মজীবন: মুদ্রার উল্টো পিঠ তদন্তকারী সংস্থাগুলোর রিপোর্ট অনুযায়ী, কোল টমাস অ্যালেন কেবল একজন সাধারণ যুবক ছিলেন না। তাঁর শিক্ষাগত রেকর্ড অত্যন্ত ঈর্ষণীয়:
একাডেমিক পারফরম্যান্স: স্কুলের গণ্ডি থেকেই তিনি একজন ‘এ-গ্রেড’ ছাত্র হিসেবে পরিচিত ছিলেন। বিশেষ করে গণিত ও বিজ্ঞানে তাঁর দখল ছিল অসামান্য।
বিস্ময়কর কর্মজীবন: স্নাতক হওয়ার পর তিনি একটি নামী বহুজাতিক সংস্থায় কারিগরি ক্ষেত্রে কাজ শুরু করেন। সহকর্মীদের কাছে তিনি ছিলেন মিতভাষী এবং পরিশ্রমী এক যুবক। কোনো ধরনের উগ্রতা বা রাজনৈতিক সংঘাতের ছাপ তাঁর পেশাদার জীবনে কখনও দেখা যায়নি।
কেন এই পরিবর্তন? অ্যালেনের ব্যক্তিগত নথিপত্র এবং সোশ্যাল মিডিয়া ঘেঁটে গোয়েন্দারা তাঁর মানসিক বিবর্তনের সূত্র খুঁজছেন। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, গত কয়েক বছরে তিনি ক্রমশ একা হয়ে পড়েছিলেন এবং বেশ কিছু বিতর্কিত অনলাইন ফোরামের প্রতি আসক্ত হয়ে পড়েন। একটি সাজানো জীবন থাকা সত্ত্বেও কোন ‘রেডিক্যালাইজেশন’ তাঁকে ট্রাম্পের মতো হাই-প্রোফাইল নেতার ওপর হামলা চালাতে প্ররোচিত করল, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন।
হামলার সময়কার পরিস্থিতি: ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন মঞ্চে ভাষণ দিচ্ছিলেন, ঠিক তখনই অ্যালেন ভিড়ের মধ্যে থেকে অত্যন্ত নিখুঁত লক্ষ্যভেদের চেষ্টা করেন। নিরাপত্তারক্ষীরা দ্রুত পাল্টা ব্যবস্থা না নিলে বড় ধরনের রক্তক্ষয়ী ঘটনা ঘটতে পারত। বর্তমানে অ্যালেন জেল হেফাজতে রয়েছেন এবং তাঁকে কঠোর জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি করা হচ্ছে।
এক নজরে কোল টমাস অ্যালেন:
কোনো পূর্ব অপরাধমূলক রেকর্ড ছিল না।
হাই-টেক জবে কর্মরত থাকার অভিজ্ঞতা।
তদন্তকারীদের ধারণা, এটি কোনো বড় প্রোপাগান্ডার ফল হতে পারে।





