ট্রাম্পের শুল্ক হুমকি সত্ত্বেও ভারতের অর্থনীতিতে সুখবর, জিডিপি বৃদ্ধির হার ৭.৮ শতাংশ

ভারতীয় অর্থনীতির জন্য এক দারুণ খবর। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে (এপ্রিল-জুন) ভারতের জিডিপি বৃদ্ধির হার ৭.৮ শতাংশে পৌঁছেছে, যা সকলের প্রত্যাশাকে ছাপিয়ে গেছে। আগে যেখানে ৬.৭ শতাংশ বৃদ্ধির অনুমান করা হয়েছিল, সেখানে এই রেকর্ড-ব্রেকিং পারফরম্যান্স অর্থনীতির ভবিষ্যৎ সম্পর্কে নতুন আশা জাগিয়েছে। গত বছর এই একই সময়ে জিডিপি বৃদ্ধির হার ছিল ৬.৫ শতাংশ।

পরিসংখ্যান ও কর্মসূচি বাস্তবায়ন মন্ত্রকের প্রকাশিত রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরের চতুর্থ প্রান্তিকে জিডিপি বৃদ্ধির হার ছিল ৭.৪ শতাংশ, আর এখন প্রথম তিন মাসে তা ৭.৮ শতাংশে পৌঁছেছে। এই পরিসংখ্যান স্পষ্ট ইঙ্গিত দেয় যে ভারতীয় অর্থনীতি এক শক্তিশালী গতি নিয়ে এগিয়ে চলেছে।

মূল চালিকাশক্তি: সার্ভিস সেক্টর ও বিনিয়োগ

এই চমকপ্রদ বৃদ্ধির পেছনে মূল ভূমিকা পালন করেছে সার্ভিস সেক্টর, যা ভারতীয় অর্থনীতির অন্যতম স্তম্ভ। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে সার্ভিস সেক্টরে ৭.৬ শতাংশ প্রকৃত গ্রস ভ্যালু অ্যাডেড (জিভিএ) বৃদ্ধি রেকর্ড করা হয়েছে, যা অর্থনীতিকে দারুণভাবে চাঙ্গা করেছে। এছাড়াও, সরকারের ক্রমাগত বিনিয়োগ এবং সরকারি ব্যয় বৃদ্ধি এই ইতিবাচক গতিকে আরও ত্বরান্বিত করেছে।

কৃষি খাতেও উন্নতি, কিন্তু কিছু খাতে মন্দা

জিডিপি-র এই সামগ্রিক বৃদ্ধির পাশাপাশি কৃষি এবং সংশ্লিষ্ট খাতেও একটি ইতিবাচক চিত্র দেখা গেছে। এই খাতে প্রকৃত জিভিএ বৃদ্ধির হার ছিল ৩.৭ শতাংশ, যা গত বছরের ১.৫ শতাংশের তুলনায় বেশ ভালো। তবে কিছু খাতে মন্দা লক্ষ্য করা গেছে, যা কিছুটা উদ্বেগের বিষয়। মাইনিং সেক্টরে ৩.১ শতাংশ এবং বিদ্যুৎ, গ্যাস ও জল সরবরাহ সেক্টরে মাত্র ০.৫ শতাংশ বৃদ্ধি হয়েছে। এছাড়াও, বেসরকারি চূড়ান্ত খরচ ব্যয় (PFCE) কিছুটা কমেছে, যা আগের অর্থবছরের ৮.৩ শতাংশ থেকে এখন ৭.০ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।

আন্তর্জাতিক চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও স্থিতিশীলতা

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই অসাধারণ পারফরম্যান্স এমন এক সময়ে এসেছে যখন আন্তর্জাতিক বাজারে বেশ কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভারতের ওপর ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করেছেন। এমন পরিস্থিতিতে অনেকেই আশঙ্কা করছিলেন যে এর প্রভাব ভারতের জিডিপি বৃদ্ধির ওপর পড়বে। কিন্তু বর্তমান রিপোর্ট সেই সব আশঙ্কাকে মিথ্যা প্রমাণ করেছে এবং দেখিয়েছে যে ভারতীয় অর্থনীতি অভ্যন্তরীণ শক্তি দিয়ে এই আন্তর্জাতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সক্ষম।

সামগ্রিকভাবে, এই পরিসংখ্যান ভারতীয় অর্থনীতির স্থিতিশীলতা এবং বৃদ্ধির ক্ষমতাকে প্রমাণ করে। সরকারের নীতি এবং ব্যক্তিগত খাতে বিনিয়োগ যদি এই গতিতে চলতে থাকে, তাহলে আগামী দিনে আরও ভালো ফল আশা করা যায়।

Related Posts

© 2025 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy