মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্রে ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষিত দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি সাময়িক স্বস্তি দিলেও, নতুন করে দানা বেঁধেছে কূটনৈতিক বিতর্ক। এই চুক্তির আওতা থেকে লেবাননকে বাইরে রাখার ঘোষণায় পরিস্থিতি ফের জটিল হয়ে উঠেছে। ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, তাঁরা ট্রাম্পের সিদ্ধান্তকে সমর্থন করলেও লেবাননের ক্ষেত্রে এই যুদ্ধবিরতি কার্যকর হবে না।
বুধবার এক বিবৃতিতে নেতানিয়াহুর দপ্তর জানায়, ইরানকে পরমাণু ও ক্ষেপণাস্ত্র শক্তি হিসেবে নিরস্ত করার মার্কিন লক্ষ্যকে তাঁরা সাধুবাদ জানান। তবে একইসঙ্গে সাফ জানানো হয়েছে, লেবাননে ইজরায়েলি অভিযান থামছে না। নেতানিয়াহুর এই অবস্থান সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের দাবিকে। শরিফ এর আগে দাবি করেছিলেন, এই যুদ্ধবিরতি লেবাননসহ পুরো অঞ্চলেই কার্যকর হবে। উল্লেখ্য, এই সমঝোতায় মধ্যস্থতাকারী হিসেবে শাহবাজ শরিফ ও পাক সেনাপ্রধান আসিম মুনির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।
গত ২ মার্চ ইরানের সর্বোচ্চ নেতা খামেনেই-এর হত্যার প্রতিশোধ নিতে হিজবুল্লাহর রকেট হামলার পর থেকেই লেবাননে ব্যাপক ধ্বংসলীলা চালাচ্ছে ইজরায়েল। এই যুদ্ধে ইতিমধ্যেই ১৫০০-র বেশি প্রাণহানি ঘটেছে এবং ১০ লক্ষ মানুষ গৃহহীন হয়েছেন। এই চরম উত্তেজনার মাঝেই ট্রাম্পের হামলার সময়সীমা শেষ হওয়ার মাত্র এক ঘণ্টা আগে এই সমঝোতা হয়। ইরান একে নিজেদের কূটনৈতিক জয় হিসেবে দেখছে। আগামী ১০ এপ্রিল পাকিস্তানের ইসলামাবাদে আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে চূড়ান্ত শান্তি আলোচনা শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। তবে লেবানন নিয়ে ইজরায়েলের অনড় অবস্থান এই শান্তি প্রক্রিয়ার স্থায়ীত্ব নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিল।





