আমেরিকার রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসির একটি বিলাসবহুল হোটেলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে লক্ষ্য করে ফের এক নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার ঘটনায় বিশ্বজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে। এই নক্কারজনক ঘটনার পরপরই গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ট্রাম্পের ওপর এই তৃতীয় দফার হামলা বা হুমকির ঘটনায় মোদী স্পষ্ট জানিয়েছেন, গণতন্ত্রে সহিংসতার কোনো স্থান নেই।
হাড়হিম করা সেই মুহূর্ত:
শনিবার রাতে ওয়াশিংটন হিলটন হোটেলে ঐতিহ্যবাহী ‘হোয়াইট হাউস করেসপন্ডেন্টস ডিনার’ চলছিল। উপস্থিত ছিলেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প, ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। উৎসবের মেজাজ নিমেষেই বিষাদে পরিণত হয় যখন হঠাৎ ব্যালরুমের বাইরে গুলির শব্দ শোনা যায়। মুহূর্তের মধ্যে সিক্রেট সার্ভিসের এজেন্টরা প্রেসিডেন্টকে ঘিরে ফেলেন এবং নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে যান। আতঙ্কিত অতিথিরা জীবন বাঁচাতে টেবিলের নিচে আশ্রয় নেন।
মোদী-ট্রাম্প ঘনিষ্ঠতা ও ভারতের প্রতিক্রিয়া:
ঘটনার খবর পাওয়ামাত্রই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) লেখেন, “প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প, ফার্স্ট লেডি এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট নিরাপদ ও অক্ষত আছেন জেনে আমি স্বস্তি পেয়েছি। আমি তাঁদের নিরাপত্তা ও দীর্ঘায়ু কামনা করি। গণতন্ত্রে হিংসাকে কোনোভাবেই বরদাস্ত করা উচিত নয় এবং এর তীব্র নিন্দা জানানো প্রয়োজন।” মোদীর এই দ্রুত প্রতিক্রিয়া ভারত ও আমেরিকার বর্তমান প্রগাঢ় কূটনৈতিক ও ব্যক্তিগত সম্পর্কেরই প্রতিফলন।
সূত্র অনুযায়ী, একজন সশস্ত্র ব্যক্তিকে হোটেলের লবির কাছ থেকে আটক করা হয়েছে। ট্রাম্প এই ঘটনাকে ‘লোন উল্ফ’ আক্রমণ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। ২০২৪-এর নির্বাচনী প্রচার থেকে শুরু করে এ পর্যন্ত এটি ট্রাম্পের ওপর তৃতীয় বড় ধরনের নিরাপত্তা লঙ্ঘন। হোয়াইট হাউসের মতো সুরক্ষিত অনুষ্ঠানে কীভাবে সশস্ত্র হামলাকারী পৌঁছাল, তা নিয়ে এখন আমেরিকার নিরাপত্তা ব্যবস্থা বড়সড় প্রশ্নের মুখে।





