প্রাথমিক ও উচ্চ প্রাথমিক স্তরের যেসব শিক্ষক-শিক্ষিকারা এখনও টেট (TET) উত্তীর্ণ নন, তাঁদের দ্রুত টেট পরীক্ষায় বসে যোগ্যতা অর্জনের নির্দেশ দিয়েছে দেশের শীর্ষ আদালত সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court)। কিন্তু সুপ্রিম কোর্টের এই নির্দেশ ঘিরেই নড়েচড়ে বসেছে রাজ্য সরকার। আদালতের রায় পুনর্বিবেচনার জন্য রাজ্য এবার ফের যাচ্ছে সুপ্রিম কোর্টে। ইতিমধ্যেই সেই নিয়ে বিকাশ ভবন থেকে প্রস্তুতি শুরু হয়েছে।
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে কী বলা হয়েছে?
বিচারপতি দীপঙ্কর দত্ত এবং বিচারপতি অগাস্টিন জর্জ মাসিহের ডিভিশন বেঞ্চ এই রায় দিয়েছে। আদালতের এই নির্দেশ রাজ্যের প্রায় ১ লক্ষ শিক্ষক-শিক্ষিকাকে প্রভাবিত করতে পারে বলে সরকারি হিসেবে জানা গেছে।
টেট বাধ্যতামূলক: পদোন্নতির ক্ষেত্রেও শিক্ষককে টেট উত্তীর্ণ হতে হবে বলে জানানো হয়েছে।
চাকরি বহাল রাখার শর্ত: আদালতের রায় অনুযায়ী, আগামী ২ বছরের মধ্যে যারা টেট পাশ করতে পারবেন, তাঁদের চাকরি বহাল থাকবে।
চাকরি বাতিল: নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে টেট উত্তীর্ণ না হলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষককে চাকরি ছাড়তে হবে বা বাধ্যতামূলক অবসরের জন্য আবেদন করতে হবে।
ছাড়: তবে, যাঁরা আগামী ৫ বছরের মধ্যে অবসরে যাচ্ছেন, তাঁদের ক্ষেত্রে টেট পাশ বাধ্যতামূলক নয় বলে স্পষ্ট করেছে সুপ্রিম কোর্ট।
রাজ্যের শিক্ষক মহলে উদ্বেগ
সুপ্রিম কোর্টের এই রায় প্রকাশের পর থেকেই রাজ্যের প্রাথমিক শিক্ষকদের একাংশের মধ্যে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষত, যাঁরা গত ১৫ থেকে ২০ বছর ধরে প্রাথমিক স্কুলে কর্মরত, তাঁরাও এই নির্দেশের আওতায় পড়ায় চাকরির স্থায়িত্ব নিয়ে বড়সড় অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। শিক্ষা মহলের আশঙ্কা, বিপুল সংখ্যক শিক্ষক নতুন করে টেট পরীক্ষায় বসলে পঠনপাঠনেও প্রভাব পড়তে পারে।
পুনর্বিবেচনার আবেদন নিয়ে নবান্নের তৎপরতা
স্কুলশিক্ষা দপ্তর থেকে এই বিষয়ে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছিল নবান্নে। সূত্রের খবর, নবান্ন থেকে সবুজ সংকেত মিলতেই বিকাশ ভবনের তরফে সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। প্রশাসনিক মহলের ধারণা, রাজ্য সরকারের তরফে এই নির্দেশ পুনর্বিবেচনার আবেদন জানিয়ে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের কিছুটা সময় ও সুযোগ চাওয়া হতে পারে।
রাজ্যের পঞ্চায়েত নির্বাচনের আগে রাজ্য সরকারের এই উদ্যোগ প্রায় ১ লক্ষ শিক্ষকের জন্য বড় স্বস্তির কারণ হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।