টিটিই-র ‘হেনস্তা’ কেড়ে নিল প্রাণ! টিকিট না থাকায় অপমানে পরীক্ষা না দিয়েই ফিরল ছাত্রী, বাড়িতে উদ্ধার ঝুলন্ত দেহ

টিকিট ছিল না হাতে, আর সেই ‘অপরাধে’ এক উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার্থীকে রেলের টিটিই-র (TTE) হাতে চরম হেনস্তার শিকার হতে হলো বলে অভিযোগ। সেই অপমানে পরীক্ষা কেন্দ্রে না গিয়ে বাড়ি ফিরে আত্মহত্যার পথ বেছে নিলেন ওই মেধাবী ছাত্রী। শনিবার এই মর্মান্তিক ঘটনাকে কেন্দ্র করে শোকের ছায়া নেমে এসেছে এলাকায়। রেলের এই অমানবিক আচরণের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন নিহতের পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দারা।

ঠিক কী ঘটেছিল? সূত্রের খবর, আজ সকালে উচ্চমাধ্যমিকের গুরুত্বপূর্ণ একটি পরীক্ষা দিতে ট্রেনে করে যাচ্ছিলেন ওই ছাত্রী। তাড়াহুড়ো করে স্টেশনে পৌঁছানোয় টিকিট কাটার সময় পাননি তিনি। মাঝপথে টিটিই টিকিট চাইলে তিনি নিজের পরীক্ষার্থীর পরিচয়পত্র (Admit Card) দেখান এবং জানান যে পরীক্ষা শেষে তিনি জরিমানা দিয়ে দেবেন। কিন্তু অভিযোগ, ওই টিটিই ছাত্রীর কোনো কথা না শুনে তাঁকে ট্রেনের কামরাতেই সবার সামনে অকথ্য ভাষায় অপমান ও হেনস্তা করতে শুরু করেন।

মর্মান্তিক পরিণতি: প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, হেনস্তার জেরে ওই ছাত্রী এতটাই ভেঙে পড়েন যে তিনি পরবর্তী স্টেশনে নেমে আর পরীক্ষা কেন্দ্রের দিকে যাননি। লোকলজ্জা আর অপমানের জ্বালায় তিনি বাড়ি ফিরে আসেন। বাড়িতে কেউ না থাকার সুযোগে ঘরে ঢুকে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মঘাতী হন ওই তরুণী। দীর্ঘক্ষণ সাড়া না পেয়ে প্রতিবেশীরা দরজা ভেঙে তাঁর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করেন।

নিহতের পরিবারের অভিযোগ: ছাত্রীর বাবা কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন, “আমার মেয়ে খুব শান্ত ছিল। ও কেবল পরীক্ষা দিতে যাচ্ছিল। সামান্য টিকিটের জন্য একজন টিটিই কীভাবে ওকে সবার সামনে অপমান করতে পারেন? ওই টিটিই-র জন্যই আজ আমার মেয়েটা চলে গেল।” পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযুক্ত রেল কর্মীর বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ জানানো হয়েছে।

রেল কর্তৃপক্ষের প্রতিক্রিয়া: এই বিষয়ে রেলের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক। ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে এবং ওই সময় ডিউটিতে থাকা টিটিই-কে চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে। দোষ প্রমাণিত হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy