টিকটকের নেশায় বুঁদ ছিলেন ওপেনএআই প্রধান! স্যাম অল্টম্যানের এমন আসক্তির কথা শুনে চমকে উঠলেন টেক দুনিয়ার বিশেষজ্ঞরা

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই দুনিয়ার সবচেয়ে প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব তথা ওপেনএআই-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) স্যাম অল্টম্যান নিজের একটি ব্যক্তিগত গোপন অভ্যাস নিয়ে মুখ খুলে সম্প্রতি বিশ্বজুড়ে প্রযুক্তিপ্রেমীদের মাঝে এক দারুণ চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছেন। তিনি অত্যন্ত খোলামেলাভাবে স্বীকার করেছেন যে এক সময় তিনি জনপ্রিয় শর্ট-ভিডিও প্ল্যাটফর্ম টিকটকের নেশায় পুরোপুরি আসক্ত হয়ে পড়েছিলেন। প্রথমে খুব সামান্য সময়ের জন্য অ্যাপটি ব্যবহার শুরু করলেও ধীরে ধীরে তা এতটাই মারাত্মক আকার ধারণ করে যে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ভিডিও স্ক্রোল করতেই কেটে যেত। শেষ পর্যন্ত নিজের ভুল বুঝতে পেরে তিনি ওই জনপ্রিয় সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাপটি তাঁর মোবাইল ফোন থেকে পাকাপাকিভাবে ডিলিট বা মুছে ফেলতে বাধ্য হন। একটি জনপ্রিয় পডকাস্ট অনুষ্ঠানে হাজির হয়ে নিজের এই আসক্তি ও উত্তরণের রোমাঞ্চকর গল্প শেয়ার করেছেন টেক জায়ান্ট সংস্থার এই শীর্ষ কর্তা।

জনপ্রিয় পডকাস্ট ‘হাউ টু স্টার্ট এ স্টার্টআপ’-এর একটি একেবারে নতুন এবং আকর্ষণীয় পর্বে স্যাম অল্টম্যান বিস্তারিত ব্যাখ্যা করে জানিয়েছেন যে, তাঁদের প্রতিষ্ঠান যখন অত্যন্ত উচ্চমানের এআই ভিডিও জেনারেশন টুল ‘সোরা’ (Sora) তৈরির কাজে ব্যস্ত ছিল, সেই সময়ই তাঁরা ইচ্ছাকৃতভাবে টিকটক প্ল্যাটফর্মটি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ ও ব্যবহার করা শুরু করেছিলেন। তাঁদের মূল এবং সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য ছিল এটি বোঝা যে ব্যবহারকারীরা এই ধরনের শর্ট-ভিডিও প্ল্যাটফর্মগুলিতে প্রতিদিন ঠিক কতখানি সময় ও মনোযোগ ব্যয় করেন। অল্টম্যানের মতে, তাঁরা এমন কোনো ক্ষতিকারক পণ্য বা প্রযুক্তি বাজারে আনতে চাননি যা সাধারণ মানুষের বহুমূল্য সময় অযথা নষ্ট করবে। তিনি জানান যে সোরা অ্যাপটি পুরোপুরি প্রস্তুত করার আগে তাঁরা ব্যক্তিগতভাবে খুব একটা টিকটক ব্যবহার করতেন না, কিন্তু প্রডাক্ট ডেভেলপমেন্টের স্বার্থেই প্রতিদ্বন্দী প্ল্যাটফর্মের অ্যালগরিদম ও ব্যবহারকারীর মানসিকতা বোঝাটা সেই মুহূর্তে অত্যন্ত জরুরি বলে তাঁদের মনে হয়েছিল।

নিজের ব্যক্তিগত আসক্তির যাত্রাপথ বর্ণনা করতে গিয়ে স্যাম অল্টম্যান জানান যে এই অভিজ্ঞতাটি কীভাবে ধীরে ধীরে নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গিয়েছিল। তিনি ভেবেছিলেন যে প্রতি রাতে ঘুমানোর ঠিক আগে মাত্র ১০ মিনিট সময় ব্যয় করে টিকটক দেখবেন এবং নিজের ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রাখবেন। কিন্তু খুব দ্রুতই সেই ১০ মিনিটের সংক্ষিপ্ত সময়সীমা এক দীর্ঘ ঘণ্টায় রূপান্তরিত হয়। একটি বিশেষ ঘটনার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এক ছুটির দিনে তিনি প্রায় একটানা তিন ঘণ্টা শুধু টিকটকের ভিডিও দেখেই কাটিয়ে দিয়েছিলেন। ঠিক সেই মুহূর্তেই তিনি বুঝতে পেরেছিলেন যে এই অভিজ্ঞতাটি তাঁর প্রত্যাশার সঙ্গে বিন্দুমাত্র মিলছে না এবং টিকটক ব্যবহার করার পুরো বিষয়টি তাঁর কাছে এক মারাত্মক ও অস্বাস্থ্যকর নেশার মতো মনে হতে শুরু করেছে। পরবর্তীতে তিনি এর ব্যবহার সীমিত করে পাঁচ থেকে দশ মিনিটে নামিয়ে আনার চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত নিজের মানসিক প্রশান্তি বজায় রাখতে অ্যাপটি ফোন থেকে চিরতরে ডিলিট করে দেন।

শুধু টিকটক ডিলিট করাই নয়, নিজের জীবনযাত্রাকে আরও বেশি সুশৃঙ্খল ও উৎপাদনশীল করে তুলতে স্যাম অল্টম্যান আরও বেশ কিছু কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন। তিনি জানিয়েছেন যে তিনি তাঁর মোবাইল ফোনের সমস্ত ধরনের নোটিফিকেশন বা বিজ্ঞপ্তি সম্পূর্ণ বন্ধ করে দিয়েছেন, যার মধ্যে জরুরি মেসেজিং অ্যাপের নোটিফিকেশনগুলিও বাদ যায়নি। তাঁর সুদৃঢ় বিশ্বাস যে এই একটিমাত্র সিদ্ধান্ত তাঁর পেশাগত ও ব্যক্তিগত জীবনের জন্য অত্যন্ত ফলপ্রসূ এবং উপকারী প্রমাণিত হয়েছে। এছাড়া সাম্প্রতিক ওই পডকাস্ট আলোচনায় তিনি ওপেনএআই-এর আসন্ন চ্যাটজিপিটি-ভিত্তিক হার্ডওয়্যার ডিভাইসগুলি সম্পর্কেও কিছু ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করেছেন। তিনি আশা প্রকাশ করেছেন যে এই আধুনিক ডিভাইসগুলি ভবিষ্যতে মানুষের দৈনন্দিন জীবনে দারুণ উপকারী ও সহায়ক হবে। তবে একই সঙ্গে তিনি এও সতর্ক করে দিয়েছেন যে কিছু মানুষ এই প্রযুক্তির অপব্যবহার করতে পারে, যা এমন কিছু অপ্রত্যাশিত ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে যার সুদূরপ্রসারী পরিণতি আজ কল্পনারও অতীত।