টাকা আটকে রাখলে সোজা কড়া পদক্ষেপ! এক যুগ পর কি বদলাবে টালিগঞ্জের চিরাচরিত ছবি?

টলিউডে সমস্যা যেন দীর্ঘদিনের এক স্থায়ী অধ্যায়। কখনও টেকনিশিয়ান বনাম পরিচালক, কখনও প্রযোজক বনাম ফেডারেশন, আবার কখনও বকেয়া পারিশ্রমিক কিংবা শুটিংয়ের নানা শর্ত নিয়ে তৈরি হওয়া অচলাবস্থা টালিগঞ্জ ইন্ডাস্ট্রিকে বারবার থমকে দিয়েছে। গত এক দশকে একাধিকবার শুটিং বন্ধ হওয়া, আইনি লড়াই এবং প্রশাসনিক হস্তক্ষেপের সাক্ষী থেকেছে বাংলা চলচ্চিত্র জগৎ। ২০১৭ সালের সুপ্রিম কোর্টের আইনি প্রশ্ন থেকে শুরু করে ২০২৪ সালের পরিচালক রাহুল মুখোপাধ্যায় বিতর্ক কিংবা ২০২৫ সালে আদালতের দ্বারস্থ হওয়া—ক্ষমতার এই টানাপোড়েন ছিল নিত্যদিনের ঘটনা। তবে এবার এই সমস্ত পুরনো সমস্যার স্থায়ী ও কাঠামোগত সমাধানের লক্ষ্যে রাজ্য সরকার এক ঐতিহাসিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। তথ্য ও সংস্কৃতি দফতরের উদ্যোগে আয়োজিত একাধিক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে প্রযোজক, টেকনিশিয়ান গিল্ড, ফেডারেশন এবং পরিচালকদের এক টেবিলে এনে একটি সুনির্দিষ্ট রূপরেখা তৈরি করা হয়েছে।

নতুন এই প্রস্তাবগুলির মধ্যে সবথেকে বড় গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে কাজের স্বচ্ছতা ও সুরক্ষার ওপর। দীর্ঘদিনের অভিযোগ ছিল, প্রযোজক টাকা দিলেও মাঝের কতিপয় লাইন প্রোডিউসার বা এক্সিকিউটিভ প্রোডিউসাররা টেকনিশিয়ানদের পারিশ্রমিক আটকে রাখেন। এই অসাধু চক্র ভাঙতে এবার কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে এবং দোষী প্রোডিউসারদের বয়কট করার প্রস্তাব এসেছে। পাশাপাশি, কাজের নির্দিষ্ট সময়, শিষ্টাচার, ব্রেক, রাতের শুটিং শেষে যাতায়াত এবং নিরাপত্তার মতো বিষয়গুলিকে বাধ্যতামূলক করে একটি স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউ বা এসওপি (SOP) তৈরির পরিকল্পনা করা হয়েছে। শুটিংয়ে শৃঙ্খলা ফেরাতে এবং দীর্ঘমেয়াদি সমন্বয় বজায় রাখতে একটি কার্যকরী কমিটি (Working Committee) গঠনের প্রস্তাবও রয়েছে। শুধু তাই নয়, সিঙ্গেল উইন্ডো সিস্টেমের মাধ্যমে সহজেই শুটিংয়ের অনুমতি এবং ডিজিটাল পোর্টালের মাধ্যমে অভিযোগ নিষ্পত্তির ব্যবস্থাও করা হচ্ছে। এখন দেখার, দশকের পর দশক ধরে চলা এই ক্ষমতার লড়াই কাটিয়ে নতুন নীতি বাস্তবায়নের মাধ্যমে টলিউড সত্যিই ঘুরে দাঁড়াতে পারে কি না।