‘টাইপ ৫ নয়, টাইপ ৭/৮ বাংলো চাই’, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে কেন বৈষম্যের অভিযোগ তুললেন কেজরিওয়াল?

প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়ালের সরকারি বাসভবন সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের বিতর্কের প্রায় সমাপ্তি হলো। বৃহস্পতিবার দিল্লি হাইকোর্টে ভার্চুয়ালি হাজির হয়ে কেন্দ্রের তরফে সলিসিটার জেনারেল তুষার মেহতা আদালতকে জানিয়েছেন যে, আগামী ১০ দিনের মধ্যেই আম আদমি পার্টি (AAP)-র জাতীয় কনভেনর অরবিন্দ কেজরিওয়ালকে একটি উপযুক্ত সরকারি বাসভবন বরাদ্দ করা হবে।

বিচারপতি সচিন দত্ত এই আশ্বাস আদালতের নথিতে লিপিবদ্ধ করেন এবং মন্তব্য করেন যে, “এই বিষয়টি আর ঝুলিয়ে রাখা উচিত নয়। এটি এমন একটি প্রশাসনিক বিষয়, যা শুধুমাত্র রাজনীতিবিদদের ক্ষেত্রেই নয়, অরাজনৈতিক ক্ষেত্রেও সুসংগঠিত হওয়া প্রয়োজন।”

আপ-এর দাবি: ‘বৈষম্যমূলক বরাদ্দ চাই না’
শুনানির সময় আম আদমি পার্টির সিনিয়র অ্যাডভোকেট রাহুল মেহরা যুক্তি দেন যে, একজন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে কেজরিওয়ালের টাইপ ৭ বা টাইপ ৮ শ্রেণির বাংলো পাওয়ার অধিকার রয়েছে। তাঁকে টাইপ ৫ বাংলো দেওয়া বৈষম্যমূলক এবং প্রটোকল অনুযায়ী নয়।

মেহরা বলেন, “আমি কোনও বিশেষ সুবিধা চাই না, কিন্তু আমাকে অবমূল্যায়নও করা যাবে না।”

অন্যদিকে, কেন্দ্র ৩৫ লোধি এস্টেটের বাংলোটি কেজরিওয়ালকে দেওয়ার দাবি খারিজ করে দিয়ে জানিয়েছে, বাংলোটি ইতিমধ্যেই এক প্রতিমন্ত্রীর কাছে বরাদ্দ করা হয়েছে। কেন্দ্র স্পষ্ট জানিয়ে দেয় যে, কোনও রাজনৈতিক দল বা নেতা নির্দিষ্ট কোনও বাংলো দাবি করতে পারেন না; বরাদ্দ নির্ভর করবে প্রাপ্যতা, নীতি এবং অপেক্ষমাণ তালিকার উপর।

আদালত ও কেন্দ্রের প্রতিক্রিয়া
আগের শুনানিতে আদালত কেন্দ্রের আচরণে অসন্তোষ প্রকাশ করে বলেছিল যে, “ওয়েটিং লিস্টের অজুহাতে অনির্দিষ্টকালের জন্য বিলম্ব করা যাবে না।”

বৃহস্পতিবার উত্তপ্ত বিতর্কের পরে বিচারপতি দত্ত জানান, আদালত রেকর্ডে রাখছে যে ১০ দিনের মধ্যেই উপযুক্ত বাসস্থান বরাদ্দ করা হবে এবং একটি আনুষ্ঠানিক আদেশও জারি করা হবে।

২০২৪ সালের অক্টোবরে মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করার পর অরবিন্দ কেজরিওয়াল ৬, ফ্ল্যাগস্টাফ রোডের সরকারি বাসভবন ছেড়ে দেন। এরপর থেকে তিনি মাণ্ডি হাউসের কাছে দলের এক সদস্যের সরকারি বাড়িতে অবস্থান করছেন। এখন নজর রয়েছে, কোন বাংলো তাঁকে বরাদ্দ করা হয় এবং কবে তিনি নতুন ঠিকানায় উঠবেন।