টলিপাড়ার সেই প্রাণখোলা ছেলেটা আর নেই! রাহুল বন্দ্যোপাধ্যায়ের অকাল প্রয়াণে কী জানালেন তাঁর সহকর্মীরা?

বাংলা চলচ্চিত্র জগতের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র পতন। রবিবার ওড়িশার তালসারি সৈকতে শ্যুটিং চলাকালীন মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন জনপ্রিয় অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর এই আকস্মিক চলে যাওয়া মেনে নিতে পারছেন না টলিউডের সহকর্মী থেকে শুরু করে অগণিত ভক্ত। বিশেষ করে রাহুলের দীর্ঘদিনের বন্ধু ও সহকর্মী শাশ্বত চট্টোপাধ্যায় এবং উষসী চক্রবর্তী গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।

শাশ্বত চট্টোপাধ্যায় রাহুলের স্মৃতিচারণা করতে গিয়ে অত্যন্ত আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন। তিনি জানান, রাহুল ছিলেন ইন্ডাস্ট্রির সেই বিরল ব্যক্তিত্বদের একজন, যাঁরা স্পষ্ট কথা বলতে ভয় পেতেন না। শাশ্বত বলেন, “রাহুল শুধু একজন ভালো অভিনেতাই ছিল না, ও ছিল অত্যন্ত শিক্ষিত এবং স্পষ্টবক্তা। এই ইন্ডাস্ট্রিতে মেরুদণ্ড সোজা করে কথা বলার মতো মানুষ খুব কম আছে, রাহুল তাঁদের মধ্যে অন্যতম ছিল। ওর মতো প্রাণখোলা মানুষের এভাবে চলে যাওয়া অপূরণীয় ক্ষতি।” শাশ্বত আরও যোগ করেন যে, রাহুলের পড়ার অভ্যাস এবং সাহিত্যচর্চা তাঁকে অন্যদের থেকে আলাদা করে রাখত।

অন্যদিকে, অভিনেত্রী উষসী চক্রবর্তী তাঁর দীর্ঘদিনের বন্ধুর মৃত্যুতে কার্যত বাকরুদ্ধ। উষসী ও রাহুলের বন্ধুত্ব দীর্ঘ বছরের। উষসী জানান, “রাহুল ছিল অদ্ভুত এক ব্যক্তিত্ব। ও নিজের শর্তে বাঁচতে ভালোবাসত। ওর চলে যাওয়াটা বিশ্বাসই করতে পারছি না।” সামাজিক মাধ্যমেও উষসী তাঁর শোকবার্তা ভাগ করে নিয়েছেন। তাঁর কথায়, রাহুল ছিলেন একজন ‘খুবই বিরল ব্যক্তিত্ব’, যাঁর অভাব প্রতি মুহূর্তে অনুভূত হবে।

উল্লেখ্য, ‘ভোলেবাবা পার করেগা’ নামক একটি নতুন ধারাবাহিকের শ্যুটিংয়ের জন্য তালসারি গিয়েছিলেন রাহুল। রবিবার বিকেলে শ্যুটিংয়ের ফাঁকে সমুদ্রে নামলে চোরাবালিতে আটকে বা গভীর জলে তলিয়ে গিয়ে এই দুর্ঘটনা ঘটে বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে। ২০০৮ সালে ‘চিরদিনই তুমি যে আমার’ ছবির মাধ্যমে রাতারাতি তারকা হয়ে ওঠা এই অভিনেতা তাঁর কাজ ও সহজ-সরল ব্যক্তিত্বের মাধ্যমে চিরকাল বাঙালির হৃদয়ে থেকে যাবেন।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy