টলিউড থেকে সোজা বিধানসভা? মমতা-অভিষেকের তুরুপের তাস কি পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়?

২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের রণকৌশল সাজাতে এখন থেকেই কোমর বেঁধে নামছে বাংলার রাজনৈতিক দলগুলো। তবে সবথেকে বেশি চর্চা শুরু হয়েছে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের সম্ভাব্য প্রার্থী তালিকা নিয়ে। সূত্রের খবর, আগামী নির্বাচনে টলিউডের এক ঝাঁক নতুন মুখকে সামনে আনতে পারে ঘাসফুল শিবির, আর সেই তালিকায় সবথেকে উপরে যাঁর নাম ঘোরাফেরা করছে, তিনি হলেন অভিনেতা-পরিচালক পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়। যদিও বরাবরই নিজেকে সরাসরি রাজনীতি থেকে দূরে রেখেছেন এই অভিনেতা, তবে সাম্প্রতিক সময়ে শাসকদলের ঘনিষ্ঠ মহলে তাঁর আনাগোনা এবং বিভিন্ন সামাজিক ইস্যুতে তাঁর অবস্থান নতুন করে জল্পনা উসকে দিয়েছে।

তৃণমূলের অন্দরে কানাঘুষো শোনা যাচ্ছে, শিক্ষিত এবং মার্জিত ভাবমূর্তির কোনো ব্যক্তিকে এবার বড় কোনো কেন্দ্রে প্রার্থী করতে চাইছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। পরমব্রত চট্টোপাধ্যায় কেবল একজন দক্ষ অভিনেতাই নন, তাঁর রাজনৈতিক সচেতনতা এবং স্পষ্টবাদিতা সর্বজনবিদিত। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগেও তাঁকে নিয়ে জল্পনা হয়েছিল, তবে সেবার তিনি রাজি হননি। কিন্তু ২০২৬-এর প্রেক্ষাপট সম্পূর্ণ ভিন্ন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তৃণমূলের এক শীর্ষ নেতা জানিয়েছেন, “দলের পক্ষ থেকে যোগ্য ব্যক্তিদের সঙ্গে প্রাথমিক স্তরে কথা বলা হচ্ছে। পরমব্রত সবসময়ই প্রগতিশীল ভাবনার মানুষ। তিনি যদি প্রার্থী হতে রাজি হন, তবে তা দলের জন্য বড় পাওনা হবে।”

বিশেষজ্ঞদের মতে, কলকাতার কোনো একটি মর্যাদাপূর্ণ আসন অথবা নদিয়া বা উত্তর ২৪ পরগনার কোনো কেন্দ্র থেকে পরমব্রতকে লড়তে দেখা যেতে পারে। বর্তমানে পরমব্রত তাঁর একাধিক আন্তর্জাতিক প্রজেক্ট এবং অভিনয়ের কাজ নিয়ে ব্যস্ত থাকলেও, ঘনিষ্ঠ মহলে তিনি রাজনীতির প্রতি তাঁর আগ্রহের কথা একেবারেই উড়িয়ে দেননি। বিরোধী শিবিরের তারকা প্রার্থীদের টেক্কা দিতে এবং শিক্ষিত যুব সমাজের ভোট টানতে পরমব্রতর মতো মুখ তৃণমূলের জন্য তুরুপের তাস হতে পারে। তবে শেষ পর্যন্ত ‘ফেলুদা’র পর্দার রহস্যভেদের মতোই পরমব্রতর রাজনীতিতে আসাটা রহস্যে মোড়া থাকে নাকি ভোটের ময়দানে সরাসরি চ্যালেঞ্জ জানান, এখন সেটাই দেখার।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy