ঝাড়খণ্ড থেকে গ্রেফতার জঙ্গি হামিমের বান্ধবী অর্পিতা! চাঞ্চল্যকর তথ্য পেল এসটিএফ

জঙ্গি সন্দেহে ধৃত হামিম মণ্ডলের বান্ধবী অর্পিতা সরকারকে ঝাড়খণ্ডের সাহেবগঞ্জ থেকে গ্রেফতার করল পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ)। এসটিএফ সূত্রে খবর, কট্টরপন্থী ওই মডিউলের সঙ্গে অর্পিতার গভীর যোগাযোগ ছিল। আজ তাঁকে বর্ধমান থানায় নিয়ে আসা হবে এবং নিজেদের হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতে আবেদন জানাবে এসটিএফ।

কে এই অর্পিতা সরকার? তদন্তে নেমে গোয়েন্দারা জানতে পেরেছেন, হামিমের সঙ্গে অর্পিতার একাধিক হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট ও কথোপকথন উদ্ধার করেছেন এসটিএফ আধিকারিকরা। সেই চ্যাটের সূত্র ধরেই একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ও গোপন তথ্য হাতে এসেছে। কীভাবে একের পর এক নাশকতামূলক ‘অ্যাসাইনমেন্ট’ বা দায়িত্ব দেওয়া হতো হামিমকে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আজ অর্পিতা ও হামিম—দুজনকে মুখোমুখি বসিয়ে ম্যারাথন জেরা করার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে।

তদন্তকারীদের কড়া নজরে রয়েছে হামিমের ইন্টারনেট ব্যবহার। এসটিএফ সূত্রে জানা যাচ্ছে, হামিম মণ্ডলের সঙ্গে সোশ্যাল মিডিয়ায় একাধিক কট্টরপন্থী গ্রুপের নিয়মিত যোগাযোগ ও সক্রিয়তা ছিল। মূলতঃ সেই সমস্ত গ্রুপের মাধ্যমেই সে যুক্ত হতো। তবে সরাসরি পাক হ্যান্ডলার সাজ্জাদ বা শাহজাদ ভাট্টির সঙ্গে তার প্রথম যোগাযোগ কোন সূত্রে হয়েছিল, তার সন্ধান চালাচ্ছেন তদন্তকারীরা। পুলওয়ামা হামলার তদন্তে নেমে কেন্দ্রীয় তদন্তকারীরা এই ধরনের কট্টরপন্থী গ্রুপের সন্ধান পেয়েছিলেন, যেগুলির কার্যকলাপ নিয়মিত মনিটর করা হয়। সেখান থেকেই হামিমের সন্দেহজনক গতিবিধি নজরে আসে।

পাশাপাশি ডার্ক ওয়েব যোগের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না গোয়েন্দারা। এসটিএফ সূত্রে খবর, সংবেদনশীল তথ্য পাচার বা বিক্রির জন্য হ্যান্ডলাররা সাধারণত ডার্ক ওয়েবের ওপর নির্ভর করে থাকে। এক্ষেত্রেও সেই সম্ভাবনা যথেষ্ট জোরালো বলে মনে করা হচ্ছে এবং সেই সমস্ত গোপন কানেকশনগুলোও খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে। হামিমকে জিজ্ঞাসাবাদ করে এসটিএফ জানতে পেরেছে যে তার সঙ্গে যোগাযোগ ছিল পাকিস্তানের কুখ্যাত গ্যাংস্টার তথা পরবর্তী সময়ে জঙ্গি হওয়া শাহজাহাদ ভাট্টির, যিনি ‘রানা ভাই’ নামেও পরিচিত। শাহজাদ ভাট্টির গোষ্ঠীর কোনো রানার সঙ্গে হামিমের যোগাযোগের সূত্র ধরেই কি এই জঙ্গি নেটওয়ার্কে সে প্রবেশ করেছিল? সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই এখন জোরকদমে তদন্ত চালাচ্ছে এসটিএফ। এছাড়া হামিমের সঙ্গে জৈশ-ই-মহম্মদ বা আইএস (আইএসআইএস)-এর মতো আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠনের কোনো যোগাযোগ ছিল কি না, তাও গভীরভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।