মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি রহস্যময় সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট ঘিরে নতুন করে জল্পনা ও উত্তেজনার পারদ চড়তে শুরু করেছে আন্তর্জাতিক মহলে। নিজের সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলে ট্রাম্প একটি এআই (AI)-জেনারেটেড ছবি পোস্ট করেছেন, যেখানে ক্যাপশনে বড় অক্ষরে লেখা— “THE STORM IS COMING. NOTHING CAN STOP WHAT IS COMING” (অর্থাৎ, ঝড় আসছে। যা আসছে তা কেউ থামাতে পারবে না)। ট্রাম্পের এই বার্তার পরেই বিশ্ব রাজনীতিতে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে, তবে কি ইরানের বিরুদ্ধে কোনো বড় সামরিক পদক্ষেপের পথে হাঁটছে হোয়াইট হাউস?
CENTCOM-এর রণকৌশল ও ট্রাম্পের ব্রিফিং:
এই পোস্টের সময়কাল নিয়ে প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকরা বিশেষ ইঙ্গিত পাচ্ছেন। সংবাদমাধ্যম ‘অ্যাক্সিওস’-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, ইউনাইটেড স্টেটস সেন্ট্রাল কমান্ড (CENTCOM) ইতিমধ্যেই ইরানের বিরুদ্ধে একটি “স্বল্পস্থায়ী কিন্তু অত্যন্ত শক্তিশালী” সামরিক হামলার ব্লুপ্রিন্ট বা পরিকল্পনা তৈরি করে ফেলেছে। সূত্রের খবর, CENTCOM-এর প্রধান ব্র্যাড কুপার আজ বৃহস্পতিবার ট্রাম্পের সঙ্গে দেখা করবেন এবং সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপ নিয়ে বিস্তারিত ব্রিফিং দেবেন। এই বৈঠকের ঠিক আগেই ট্রাম্পের এমন ‘ঝড়’ আসার বার্তা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
পরমাণু চুক্তি ও নৌ-অবরোধের হুঁশিয়ারি:
ইরান ইতিপূর্বে যুদ্ধবিরতি এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়ার প্রস্তাব দিলেও ট্রাম্প তা সরাসরি নাকচ করে দিয়েছেন। মার্কিন প্রশাসনের মতে, তেহরান আলোচনার টেবিলে সদিচ্ছা দেখাচ্ছে না। ট্রাম্প স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, যতক্ষণ না ইরান তাদের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম দীর্ঘ সময়ের জন্য সম্পূর্ণ বন্ধ করছে এবং আমেরিকার শর্তাবলী মেনে নিচ্ছে, ততক্ষণ ইরানের ওপর কঠোর নৌ-অবরোধ বজায় রাখা হবে। ‘দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল’-এর দাবি, ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের বন্দরগুলিতে কয়েক মাস ব্যাপী দীর্ঘমেয়াদি অবরোধের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
বিশ্ব বাজারে অস্থিরতা:
মধ্যপ্রাচ্যে এই যুদ্ধংদেহী পরিস্থিতির সরাসরি প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক অর্থনীতিতে। জল্পনা ও উত্তেজনার জেরে বিশ্ববাজারে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম লাফিয়ে বেড়ে ব্যারেল প্রতি ১২০ ডলারে পৌঁছে গিয়েছে। যদি সত্যিই কোনো সামরিক সংঘাত শুরু হয়, তবে জ্বালানি তেলের দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
যদিও ট্রাম্পের এই ‘মরমী’ পোস্টের সঙ্গে কোনো নির্দিষ্ট সামরিক আদেশের সরাসরি যোগসূত্র এখনো সরকারিভাবে স্বীকার করা হয়নি, তবে প্রেসিডেন্টের এই ইঙ্গিতপূর্ণ বার্তা তেহরান থেকে বেজিং— সর্বত্র উদ্বেগের ঢেউ তুলেছে। ট্রাম্পের ‘ঝড়’ কি সত্যিই কোনো বিধ্বংসী যুদ্ধ, নাকি এটি কেবলই কূটনৈতিক চাপের কৌশল, তার উত্তর এখন সময়ের হাতে।





