‘জ্যাকলিনকে এখনই ছাড়ো!’ দিনে ১০ বার ফোন করে সুকেশকে ঠিক কী আবদার করতেন নোরা? বিস্ফোরক চিঠিতে ফাঁস সব সত্যি

বলিউড অভিনেত্রী নোরা ফতেহি এবং জেলবন্দি প্রতারক সুকেশ চন্দ্রশেখরের মধ্যকার পুরোনো বিতর্ক নতুন করে দানা বেঁধেছে। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে সুকেশের সঙ্গে নিজের নাম জড়ানোর ঘটনা এবং সেই কঠিন সময়ের কথা বলতে গিয়ে ক্যামেরার সামনে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন নোরা। তাঁর সেই ভিডিও প্রকাশ্যে আসতেই আসরে নেমেছেন সুকেশ। তিহাড় জেলের অন্দর থেকে নোরাকে উদ্দেশ করে লেখা সুকেশের একটি চিঠি বর্তমানে ইন্টারনেট দুনিয়ায় রীতিমতো ঝড় তুলেছে।

চিঠিতে নোরার সাম্প্রতিক দাবি ও কান্নাকাটির তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন সুকেশ। তাঁর স্পষ্ট অভিযোগ, নোরা নিজেকে সম্পূর্ণ নির্দোষ ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হিসেবে জাহির করার চেষ্টা করলেও তাঁদের মধ্যকার আসল সমীকরণটি ছিল সম্পূর্ণ আলাদা। সুকেশের দাবি, নোরা নিজে থেকেই তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন এবং তাঁর বিলাসবহুল জীবনযাপন ও সম্পত্তির প্রতি গভীর আগ্রহ দেখাতেন। শুধু তাই নয়, মরক্কোর ক্যাসাব্লাঙ্কায় একটি বাড়ি কেনার জন্য নোরাকে তিনি কোটি কোটি টাকা দিয়েছিলেন বলেও চাঞ্চল্যকর দাবি করেছেন এই প্রতারক।

সুকেশের চিঠিতে সবচেয়ে বেশি আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে জ্যাকলিন ফার্নান্ডেজকে নিয়ে করা তাঁর মন্তব্যগুলোতে। সুকেশের দাবি, নোরা এবং জ্যাকলিনের সম্পর্ক নিয়ে চরম হিংসা করতেন নোরা। সুকেশের সঙ্গে জ্যাকলিনের সম্পর্ক ছিন্ন করার জন্য তাঁকে প্রতিনিয়ত চাপ দিতেন তিনি। এমনকি জ্যাকলিনকে অবিলম্বে ছেড়ে দেওয়ার দাবি জানিয়ে সুকেশকে দিনে অন্তত ১০ বার ফোন করতেন নোরা—চিঠিতে এমনটাই দাবি করা হয়েছে। একইসঙ্গে নিজের বিলাসবহুল জীবনযাত্রার সমস্ত খরচ সুকেশের মাধ্যমেই বহন করানোর জন্য নোরা তাঁকে সবসময় প্রভাবিত করার চেষ্টা করতেন বলেও অভিযোগ তুলেছেন তিনি।

চিঠির একেবারে শেষ পর্যায়ে নোরাকে একপ্রকারের চরম হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন সুকেশ। তাঁর দাবি, নোরার সঙ্গে হওয়া তাঁদের সমস্ত ব্যক্তিগত কথোপকথনের চ্যাট ও ডিজিটাল স্ক্রিনশট এখনও তাঁর কাছে সুরক্ষিত রয়েছে। যদিও আপাতত সেই সমস্ত প্রমাণ জনসমক্ষে আনছেন না বলেই জানিয়েছেন তিনি। তবে নোরা যেন তাঁকে আর নতুন করে জনসমক্ষে উসকানি না দেন, চিঠির মাধ্যমে সেই সতর্কবার্তাই দিয়েছেন জেলবন্দি সুকেশ।