“জ্ঞানেশ কুমারকে ভারতরত্ন দেওয়া উচিত!” নির্বাচন কমিশন ও বিজেপির অন্দরের আঁতাত নিয়ে বিস্ফোরক ওমর আবদুল্লা

ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা ‘স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন’ (SIR) প্রক্রিয়া এবং নির্বাচন কমিশনের অন্দরে অভ্যন্তরীণ মতবিরোধের চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে আসতেই গর্জে উঠলেন জম্মু ও কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী তথা ন্যাশনাল কনফারেন্সের শীর্ষ নেতা ওমর আবদুল্লা। মঙ্গলবার সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে অত্যন্ত শ্লেষাত্মক ও খোঁচা দিয়ে তিনি মন্তব্য করেন, জ্ঞানেশ কুমারকে স্রেফ পদ্মভূষণ নয়, সরাসরি দেশের সর্বোচ্চ সম্মান ‘ভারতরত্ন’ দেওয়া উচিত! একই সঙ্গে গোটা নির্বাচন কমিশনকে তীব্র আত্মসমীক্ষা করার জোরালো পরামর্শও দিয়েছেন তিনি।

সম্প্রতি ভারতের অন্যতম শীর্ষ দৈনিক ‘দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-এর একটি বিস্ফোরক প্রতিবেদন ঘিরে জাতীয় রাজনীতিতে চরম তোলপাড় শুরু হয়েছে। সেই প্রতিবেদনে প্রকাশ্যে এসেছে যে, ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়ায় গত ১০ মাসে অন্তত ১৪ বার অন-রেকর্ড কড়া আপত্তি জানিয়েছেন খোদ কমিশন সদস্য সুখবীর সিং সান্ধু এবং বিবেক যোশী। তাঁদের মূল অভিযোগ ছিল, তাঁদের সম্পূর্ণ অন্ধকারে রেখে এবং কোনো ধরনের সুপারিশ বা সম্মতি ছাড়াই একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে।

এই প্রসঙ্গ টেনেই মঙ্গলবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ওমর আবদুল্লা স্পষ্ট ভাষায় জানান, আজ দেশের পুরো বিরোধী শিবির নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে সরব হয়েছে। আর এই ক্ষোভ কোনো কারণহীন বা ভিত্তিহীন নয়, এর নেপথ্যে কোনো রাজনৈতিক দল নয় বরং দেশের একটি প্রথমসারির সংবাদমাধ্যমের অনুসন্ধানী রিপোর্ট রয়েছে।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য উত্তর ২৪ পরগনার পানিহাটিতে এক সংবাদ সম্মেলনে জ্ঞানেশ কুমারকে ‘অন্ততপক্ষে পদ্মভূষণ’ সম্মানে ভূষিত করার জোরালো সওয়াল করেছিলেন। শমীক বাবুর দাবি ছিল, সিইসি-র দৃঢ় ও সাহসী পদক্ষপের ফলেই পশ্চিমবঙ্গে দীর্ঘদিন পর হিংসামুক্ত বিধানসভা নির্বাচন সম্ভব হয়েছে এবং ভোটার তালিকা থেকে অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের নাম বাদ দিয়ে তালিকা ‘বিশুদ্ধ’ করা গিয়েছে। শমীকের সেই মন্তব্যকে ঘিরেই চড়তে থাকে রাজনৈতিক পারদ।

বিজেপির এই প্রশংসার সুরকে কটাক্ষ করে ওমর আবদুল্লা আরও তীব্র আক্রমণ শানিয়ে বলেন, “পদ্মভূষণ নিয়ে থেমে থাকবেন কেন? জ্ঞানেশ কুমারকে তো ভারতরত্ন দেওয়া উচিত! অথবা দরকার হলে দেশের রাষ্ট্রপতি করে দেওয়া হোক। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তো আর মাত্র দু’ বছরই বাকি আছে। তিনি বিজেপির জন্য কত কী-ই না করেছেন! বলতে গেলে পুরো পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যটাই তো উনি বিজেপিকে উপহার দিয়ে দিয়েছেন!”

এদিকে, নির্বাচন কমিশনের অন্দরে দুই কমিশনারের আপত্তির খবর প্রকাশ্যে আসতেই রাজনৈতিক মহলে জল গড়াতে শুরু করেছে। এই সুযোগকে হাতছাড়া না করে বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব ও মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের তথাকথিত বোঝাপড়াকে একহাত নিয়েছেন জম্মু ও কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী। সব মিলিয়ে ভোটার তালিকা সংশোধন ঘিরে তৈরি হওয়া এই নতুন বিতর্ক আগামী দিনে জাতীয় রাজনীতিতে আরও বড় কোনো রাজনৈতিক সংঘাতের পথ প্রশস্ত করবে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।