জমি ফেলে রাখলে আর রক্ষা নেই! কড়া হুশিয়ারি দিয়ে শিল্পমহলে কী বিরাট পরিবর্তনের ঘোষণা করলেন মন্ত্রী?

শিল্পের জমি পড়ে রয়েছে, নেই কার্যকর ল্যান্ড ব্যাঙ্ক ও সুনির্দিষ্ট শিল্পনীতি—দীর্ঘ ৪৯ বছরের রাজনৈতিক শাসনকে নিশানা করে বিগত সরকারগুলির বিরুদ্ধে এমনই একগুচ্ছ বিস্ফোরক অভিযোগ তুললেন রাজ্যের শিল্পমন্ত্রী তাপস রায়। পাণ্ডবেশ্বরের বাঁকোলায় আয়োজিত এক বিশেষ শিল্প সম্মেলনে শিল্পপতি ও উদ্যোগপতিদের সামনে পূর্বতন সিপিএম এবং বিগত তৃণমূল সরকারের আমলের শিল্প সংক্রান্ত নীতিহীনতা ও পরিকাঠামোগত ঘাটতির তীব্র সমালোচনা করেন তিনি। শিল্পমন্ত্রীর এই মন্তব্যকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র শোরগোল শুরু হয়েছে।
এদিনের সম্মেলনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে শিল্পমন্ত্রী সরাসরি অভিযোগ করেন যে, বিগত চার দশকেরও বেশি সময় ধরে রাজ্যে শিল্পের অনুকূল কোনো পরিবেশ তৈরিই করা হয়নি। তাঁর দাবি, শিল্পনীতি ছিল না, ল্যান্ড পলিসি ও ল্যান্ড ব্যাঙ্কের বালাই ছিল না, এমনকি ব্যবসায়িক পরিবেশ এবং বিভিন্ন ইনসেন্টিভও তুলে নেওয়া হয়েছিল। উত্তরাধিকার সূত্রে বর্তমান সরকার কোনো পরিকাঠামোই পায়নি উল্লেখ করে তাপস রায় বলেন, বিগত সরকারগুলির রেখে যাওয়া সেই প্রশাসনিক ও পরিকাঠামোগত শূন্যতা পূরণ করতেই এখন বর্তমান সরকারকে হিমশিম খেতে হচ্ছে এবং নতুন করে সব কিছু গড়ে তোলার কাজ চলছে।
সম্মেলনের মঞ্চ থেকে শিল্পের জমি দখল করে বছরের পর বছর ফেলে রাখার প্রবণতার বিরুদ্ধেও অত্যন্ত কড়া বার্তা দিয়েছেন শিল্পমন্ত্রী। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন যে, এই ধরনের বিলাসিতা করার কোনো অবস্থাতেই নেই পশ্চিমবঙ্গ। নতুন প্ল্যান্ট বা সম্প্রসারণের প্রয়োজনে অতিরিক্ত জমির কথা সরকারকে জানাতে হবে, কিন্তু প্রয়োজনহীন জমি মাসের পর মাস বা বছরের পর বছর ফেলে রাখার প্রবণতা আর কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। ইতিমধ্যে ৩৩টি জমি বরাদ্দের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট শিল্প সংস্থাগুলিকে কড়া বার্তা দিয়ে স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে যে, জমি নেওয়ার পর নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই কাজ শুরু করতে হবে, অন্যথায় কড়া প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
বাংলার এই শিল্পায়নের প্রক্রিয়ায় কেন্দ্রীয় সরকারের সহযোগিতার প্রসঙ্গটিও বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে তুলে ধরেন মন্ত্রী। তাঁর দাবি, দেশের প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, কেন্দ্রীয় শিল্প-বাণিজ্য মন্ত্রক এবং অন্যান্য কেন্দ্রীয় মন্ত্রীরা বাংলার উন্নয়ন ও শিল্প প্রসারে যথেষ্ট ইতিবাচক সহযোগিতা করছেন। পাণ্ডবেশ্বরের এই সম্মেলনে শিল্পমন্ত্রী ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন প্রতিমন্ত্রী মৌমিতা বিশ্বাস মিশ্র, পাণ্ডবেশ্বরের বিধায়ক জিতেন্দ্র তিওয়ারি, অরিজিৎ রায়, পার্থ ঘোষ, কৃষ্ণেন্দু মুখোপাধ্যায়, লক্ষ্মণ ঘরুই, জেলাশাসক পন্নামবলাম এস এবং পুলিশ কমিশনার প্রণব কুমার সহ একাধিক বিশিষ্ট প্রশাসনিক আধিকারিক ও শিল্পপতিরা।
সম্মেলনে উপস্থিত থেকে পাণ্ডবেশ্বরের বিধায়ক জিতেন্দ্র তিওয়ারি বিগত দিনগুলির অন্ধকার দিনের কথা স্মরণ করে বলেন যে, এতদিন ধরে রাজ্যে কেবল তোলাবাজি চলেছে এবং শিল্পের অনুকূল পরিবেশ সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল। তবে নির্বাচনের ইস্তেহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী বাংলায় এবং পাণ্ডবেশ্বরে শিল্প ও কর্মসংস্থানের উপযুক্ত পরিবেশ ফিরিয়ে আনার কাজ ইতিমধ্যে জোরকদমে শুরু হয়ে গেছে। বর্তমান প্রশাসনের এই কঠোর নীতি এবং নতুন শিল্পবান্ধব পদক্ষেপগুলি আগামী দিনে বাংলার অর্থনৈতিক মানচিত্রে কতটা গভীর ইতিবাচক প্রভাব ফেলে, এখন সেটাই দেখার বিষয়।