জ্ঞানেশের বিরুদ্ধে ‘গণ-ইমপিচমেন্ট’! মোদী-শাহের আবাসের সামনে ধর্ণার হুঁশিয়ারি কংগ্রেসের, জবাবে কী বলল দিল্লি পুলিশ?

মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (CEC) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলনের ঝাঁঝ ক্রমশ বাড়াচ্ছে ‘ইন্ডি’ (INDIA) জোট। নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে এবার এক অভূতপূর্ব ‘পাবলিক ইমপিচমেন্ট’ বা গণ-ইমপিচমেন্টের ডাক দিয়েছে বিরোধী শিবির। তবে অভিযোগ উঠেছে, বিরোধীদের এই কর্মসূচির প্রস্তুতিতেই সরাসরি বাধা সৃষ্টি করছে দিল্লি পুলিশ। কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক কে সি বেণুগোপাল এই সুর চড়ালেও, সমস্ত দাবি ও অভিযোগ নস্যাৎ করেছে দিল্লি পুলিশ।
মোদী-শাহের আবাসের সামনে ধর্নার হুঙ্কার
মঙ্গলবার সামাজিক মাধ্যম ‘এক্স’-এ (সাবেক টুইটার) একটি কড়া পোস্ট করে সরাসরি দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে তীব্র আক্রমণ করেন কংগ্রেস নেতা কে সি বেণুগোপাল।
তিনি লেখেন, “২১টি বিরোধী দলের সমন্বয়ে গঠিত ইন্ডিয়া জোট আগামী ১ নভেম্বর দিল্লির মেগা র্যালি ও মিছিলের প্রাক্কালে জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে এক ঐতিহাসিক গণ-ইমপিচমেন্টের পরিকল্পনা করেছে। কিন্তু প্রথমে হোটেল অশোকে আমাদের কর্মসূচির অনুমতি দেওয়া হয়নি। এরপর রামলীলা ময়দানে সমস্ত বৈধ অনুমতি থাকা সত্ত্বেও দিল্লি পুলিশ আমাদের প্রস্তুতিতে ক্রমাগত বাধা দেওয়ার চেষ্টা করছে।”
টুইটে সরাসরি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে নিশানা করে তিনি আরও হুঁশিয়ারি দেন, “অমিত শাহজি, আপনি কত অনুমতি বাতিল করবেন? কত মানুষকে ভয় দেখিয়ে আটকাবেন? স্পষ্ট জেনে রাখুন, যা-ই ঘটুক না কেন, মোদী-শাহের ‘পুতুল’ জ্ঞানেশ কুমারকে পদচ্যুত না করা পর্যন্ত আমরা থামব না।” এমনকি বিরোধীদের এই কর্মসূচিতে অতিরিক্ত বাধা দেওয়া হলে প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সরকারি বাসভবনের সামনে বিশাল ধর্না প্রদর্শনের কড়া হুঁশিয়ারিও দেন বেণুগোপাল।
কংগ্রেসের অভিযোগ ওড়াল দিল্লি পুলিশ
অন্যদিকে, কংগ্রেস সাধারণ সম্পাদকের এই অভিযোগকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছে দিল্লি পুলিশ। পুলিশের এক পদস্থ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, হোটেল অশোকে কোনো ‘মক পার্লামেন্ট’ বা আইনি কর্মসূচির অনুমতি চেয়ে তাদের কাছে কোনো আবেদনই জমা পড়েনি।
তিনি স্পষ্ট জানান, “হোটেল একটি ব্যক্তিগত সম্পত্তি। সেখানে হল বুকিং সম্পূর্ণ হোটেল কর্তৃপক্ষ ও আয়োজকদের মধ্যকার বিষয়। এতে পুলিশের কোনো ভূমিকা নেই।” পাশাপাশি পুলিশ জানিয়েছে, ১ নভেম্বরের রামলীলা ময়দানের মেগা র্যালির জন্য পূর্বেই অনুমতি দেওয়া হয়েছিল, যা বাতিল করার কোনো ঘটনা ঘটেনি এবং পুলিশ কোনো ধরনের বাঁধাও সৃষ্টি করেনি।
৩০ অক্টোবর ‘মক পার্লামেন্ট’ ও ১ নভেম্বর ‘দিল্লি চলো’
আইনি ও রাজনৈতিক লড়াই জোরদার করতে আগামী ৩০ অক্টোবর জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে একটি ‘মক পার্লামেন্টারি’ বা কাল্পনিক সংসদীয় প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এই ‘গণ-ইমপিচমেন্ট’ কর্মসূচি পরিচালনা করবে ইন্ডিয়া জোট। সেখানে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ভোটার তালিকা সংশোধন ও একাধিক অনিয়মের খতিয়ান তুলে ধরা হবে।
এরপর ১ নভেম্বর দিল্লির ঐতিহ্যবাহী রামলীলা ময়দানে প্রায় ১০ লক্ষ সমর্থককে সঙ্গে নিয়ে ‘দিল্লি চলো’ মেগা র্যালির ডাক দেওয়া হয়েছে। বিরোধীদের মূল দাবি—ইলেক্ট্রনিক ভোটিং মেশিনের (EVM) বদলে পুনর্নবীকরণ করে ফের ব্যালট পেপারে ভোট গ্রহণ শুরু করতে হবে এবং সিইসি জ্ঞানেশ কুমারকে অবিলম্বে পদ থেকে অপসারণ করতে হবে।