২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের ঠিক মুখে বড়সড় ধাক্কা খেল শাসক শিবির। তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে ভাঙন ধরিয়ে বিজেপিতে যোগ দিলেন এক জনপ্রিয় তারকা অভিনেত্রী এবং দলের এক বর্ষীয়ান হেভিওয়েট নেতা। ভোটের রণকৌশল যখন তুঙ্গে, ঠিক সেই সময় এই জোড়া দলবদল রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণ এক লহমায় বদলে দিল বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
কারা ছাড়লেন ঘাসফুল? বিজেপির রাজ্য দপ্তরে আজ বিকেলের এই যোগদান মেলায় উপস্থিত ছিলেন গেরুয়া শিবিরের শীর্ষ নেতৃত্ব। দীর্ঘদিন তৃণমূলের হয়ে কাজ করা ওই বর্ষীয়ান নেতার দলবদল শাসক শিবিরের জন্য অত্যন্ত অস্বস্তিকর। অন্যদিকে, জনপ্রিয় ওই অভিনেত্রীর বিজেপিতে আসা মানে নির্বাচনের প্রচারে বাড়তি গ্ল্যামার ও জনসমর্থন পাওয়ার পথ প্রশস্ত হওয়া।
কেন এই আকস্মিক দলবদল? সূত্রের খবর, গত কয়েক মাস ধরেই দলের একাংশের কাজকর্মে অসন্তুষ্ট ছিলেন ওই প্রবীণ নেতা। অন্যদিকে, অভিনেত্রীর দাবি— তিনি মানুষের জন্য সরাসরি কাজ করতে চান এবং বিজেপির উন্নয়নমূলক নীতিতে অনুপ্রাণিত হয়েই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
উজ্জীবিত গেরুয়া শিবির: অমিত শাহের সফরের রেশ কাটতে না কাটতেই এই যোগদান বিজেপি কর্মীদের মধ্যে নতুন প্রাণের সঞ্চার করেছে। বিজেপির রাজ্য নেতৃত্বের দাবি, “তৃণমূলের শেষের শুরু হয়ে গিয়েছে। শিক্ষিত এবং সৎ মানুষরা এখন মোদীজির নেতৃত্বেই আস্থা রাখছেন। ভোটের দিন যত এগোবে, আরও বড় চমক অপেক্ষা করছে।”
তৃণমূলের প্রতিক্রিয়া: পাল্টা কটাক্ষ ছুড়ে দিয়েছে শাসক দল তৃণমূলও। তাদের দাবি, “যাঁদের কোনো জনভিত্তি নেই বা যাঁরা চাপে পড়ে দলবদল করছেন, তাঁদের চলে যাওয়ায় দলের কোনো ক্ষতি হবে না। মানুষ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গেই আছে।”
উপসংহার: ২০২৬-এর মহারণে বাংলার মানুষ কাকে শেষ হাসি হাসাবে তা সময় বলবে, তবে নির্বাচনের ঠিক আগে এই ‘পদ্মপ্রাপ্তি’ যে বঙ্গ রাজনীতির ময়দানকে আরও তপ্ত করে তুলল, তা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই।





