জেল থেকেই কি খুনের ছক? বাবার পর এবার মাকেও হারাল সন্তান, কাঁপছে দিল্লি

সময় বদলেছে, কিন্তু অপরাধের ধরণ বদলায়নি। ২০২৩ সালে যেভাবে প্রকাশ্যে গুলি করে খুন করা হয়েছিল বিজেন্দ্র যাদবকে, ২০২৪-এর শেষে ঠিক একইভাবে প্রাণ হারাতে হলো তাঁর স্ত্রী রচনা যাদবকে (৪৪)। দিল্লির শালিমার বাগে এই রোমহর্ষক হত্যাকাণ্ড কেবল একটি সাধারণ অপরাধ নয়, বরং বিচারব্যবস্থাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে প্রধান সাক্ষীকে সরিয়ে দেওয়ার এক জঘন্য ষড়যন্ত্র।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, শনিবার সকাল ১১টা নাগাদ এক প্রতিবেশীর সঙ্গে দেখা করে বাড়ি ফিরছিলেন রচনা। বাড়ির কাছেই দুই দুষ্কৃতী বাইকে করে এসে তাঁর পথ আটকায়। সূত্রের খবর, দুষ্কৃতীরা প্রথমে রচনার নাম জিজ্ঞাসা করে পরিচয় নিশ্চিত করে এবং তার পরেই পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে তাঁর মাথায় গুলি চালায়। ঘটনাস্থলেই রক্তাক্ত অবস্থায় লুটিয়ে পড়েন তিনি। ঘটনাস্থল থেকে একটি কার্তুজ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

তদন্তকারীদের প্রাথমিক অনুমান, স্বামীর খুনের মামলায় প্রধান সাক্ষী হওয়ার কারণেই প্রাণ দিতে হলো রচনাকে। ২০২৩ সালে পূর্ব শত্রুতার জেরে রচনার স্বামী বিজেন্দ্র যাদবকেও একইভাবে গুলি করে হত্যা করা হয়েছিল। বর্তমানে সেই মামলার বিচারপ্রক্রিয়া আদালতে চলছে। রচনার সাক্ষ্যই ছিল অভিযুক্তদের সাজা দেওয়ার প্রধান হাতিয়ার। সেই সাক্ষ্যদান রুখতেই এই চরম পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

বিজেন্দ্র হত্যা মামলায় ভরত যাদব-সহ মোট ছয় জন অভিযুক্ত। তাদের মধ্যে পাঁচ জন তিহার জেলে থাকলেও মূল পাণ্ডা ভরত যাদব এখনও পলাতক। রচনার বড় মেয়ে কণিকা যাদব সরাসরি অভিযোগ তুলেছেন যে, জেলবন্দি অপরাধীরাই ভরত যাদবের মাধ্যমে এই খুনের ছক কষেছে। অ্যাডিশনাল পুলিশ কমিশনার (নর্থ-ওয়েস্ট) ভীষ্ম সিং জানিয়েছেন, পলাতক ভরত যাদবকে ধরতে পুলিশের একাধিক টিম গঠন করা হয়েছে এবং পুরনো মামলার প্রতিটি দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy