জেলে বসেই গান্ধী পাঠ ও প্রবন্ধ রচনা! পকসো মামলায় সাজাপ্রাপ্ত যুবকের সাজা কমল বম্বে হাই কোর্টে

পাঁচ বছরের এক নাবালিকাকে যৌন নির্যাতনের ঘটনায় দোষী সাব্যস্ত এক যুবকের সাজা কমিয়ে দিল বম্বে হাই কোর্ট। ২০২০ সালে বিশেষ ‘পকসো’ (POCSO) আদালত ওই যুবককে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের নির্দেশ দিলেও, উচ্চ আদালত সেই সাজার মেয়াদ কমিয়ে ১২ বছর করেছে। বিচারপতি সরং কোটওয়াল এবং বিচারপতি সন্দেশ পাতিলের ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়েছে, অপরাধের গুরুত্ব অনস্বীকার্য হলেও অভিযুক্তের জেলের আচরণ এবং সংশোধনের সদিচ্ছাকে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

২০১৬ সালের ডিসেম্বরে মুম্বইয়ের ঘাটকোপারে প্রতিবেশী পাঁচ বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে ২০ বছর বয়সী ওই যুবক গ্রেপ্তার হন। ২০২০ সালে বিশেষ আদালতে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর তিনি হাই কোর্টের দ্বারস্থ হন। হাই কোর্টের শুনানিতে উঠে আসে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। জেলে থাকাকালীন ওই যুবক কেবল সাজাই ভোগ করেননি, বরং নিজেকে শিক্ষিত করার পথেও পা বাড়িয়েছেন। মহাত্মা গান্ধীর আদর্শ নিয়ে পড়াশোনা, বই বিশ্লেষণ এবং প্রবন্ধ রচনার জন্য তিনি তিনটি আলাদা শংসাপত্রও অর্জন করেছেন।

আদালত লক্ষ্য করেছে যে, অভিযুক্তের আগে কোনো অপরাধমূলক রেকর্ড ছিল না এবং অতিমারি পরিস্থিতিতেও তিনি কোনো জামিন পাননি। টানা ৯ বছরেরও বেশি সময় তিনি ইতিমধ্যেই শ্রীঘরে কাটিয়েছেন। বিচারপতিদের মতে, অভিযুক্তের শিক্ষামূলক কর্মকাণ্ড প্রমাণ করে যে তিনি একজন ভিন্ন মানুষ হিসেবে সমাজে ফিরতে চান। সেই কারণেই যাবজ্জীবনের বদলে ১২ বছরের সাজাকেই ‘ন্যায়বিচারের ভারসাম্য’ হিসেবে উল্লেখ করেছে আদালত।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy