জেলের ভেতর থেকে নতুন বোমা ফেললেন ইয়াসিন মালিক! হাফিজ সাইদের সঙ্গে বৈঠক কি সাজানো?

জম্মু কাশ্মীর লিবারেশন ফ্রন্ট (JKLF)-এর চেয়ারম্যান ইয়াসিন মালিক সম্প্রতি দিল্লি হাইকোর্টে দাখিল করা এক শপথপত্রে এক চাঞ্চল্যকর দাবি করেছেন। তিনি রাষ্ট্রীয় তদন্ত সংস্থা (এনআইএ)-র পক্ষ থেকে তার বিরুদ্ধে আনা ফাঁসির রায়ের প্রতিবাদ জানিয়ে বলেছেন, তিনি কাশ্মীরি পণ্ডিতদের বিরুদ্ধে গণহত্যা, হত্যা বা ধর্ষণের কোনো ষড়যন্ত্র করেননি। বরং তিনি ভারত সরকারের সঙ্গে এক গোপন শান্তি প্রক্রিয়ার অংশ ছিলেন। ইয়াসিন মালিকের এই বিস্ফোরক দাবি রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি করেছে।

রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে সম্পর্ক
শপথপত্রে মালিক জানিয়েছেন, ২০০১ সালে তিনি আরএসএস নেতাদের সঙ্গে পাঁচ ঘণ্টার ম্যারাথন আলোচনায় অংশ নিয়েছিলেন। এছাড়াও, বিবেকানন্দ ইন্টারন্যাশনাল ফাউন্ডেশন-এর পক্ষ থেকে তাকে বারবার আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তার দাবি, দুই শঙ্করাচার্যও শ্রীনগরে তার বাড়িতে “অসংখ্যবার” এসে তার সঙ্গে যৌথ সংবাদ সম্মেলন করেছিলেন।

মালিকের সবচেয়ে বিস্ফোরক দাবিটি হলো, ২০০৬ সালে পাকিস্তানের লস্কর-ই-তৈবা (LeT)-এর প্রতিষ্ঠাতা হাফিজ সাইদের সঙ্গে তার বৈঠক ভারতীয় গোয়েন্দা ব্যুরো (আইবি)-র অনুরোধে সাজানো হয়েছিল। এই বৈঠক ছিল পাকিস্তানের সঙ্গে একটি গোপন শান্তি প্রক্রিয়ার অংশ। তিনি আরও দাবি করেন, এই বৈঠকের পর তিনি তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং-কে বিস্তারিত জানিয়েছিলেন এবং মনমোহন সিং তাকে “কাশ্মীরে অহিংস আন্দোলনের জনক” বলে প্রশংসা করেছিলেন।

আর্টিকেল ৩৭০ বাতিলের পর পরিস্থিতি বদল
ইয়াসিন মালিক আরও বলেন, ১৯৯৫ সালে জেল থেকে মুক্তির এক বছর পর তিনি তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারী বাজপেয়ীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছিলেন। তার শপথপত্রে উল্লেখ আছে যে, ১৯৯৪ সাল থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত ভারত সরকারের সঙ্গে তার ২৫ বছরের বোঝাপড়া ছিল। এই সময়ে তার ও তার দলের ৩২টি TADA (টেররিস্ট অ্যান্ড ডিসরাপটিভ অ্যাকটিভিটিজ) মামলা বাতিল করা হয়েছিল। তিনি ধীরুভাই আম্বানির মতো শিল্পপতির সঙ্গে গোয়েন্দা মধ্যস্থতায় ফোনে কথা বলেছিলেন এবং সোনিয়া গান্ধীর মতো বিরোধী নেতাদের সঙ্গে বাজপেয়ীর শান্তি উদ্যোগে যোগ দিয়েছিলেন।

তিনি বলেন, ১৯৯৬ সালের পর যে চারটি গণহত্যায় ১৬৭ জন পণ্ডিত নিহত হয়েছেন, তাতে তার কোনো ভূমিকা ছিল না। বরং, তিনি সেই হতাহতদের সমর্থনে ধর্মঘট করেছেন এবং শ্মশানযাত্রায় অংশ নিয়েছেন। মালিক অভিযোগ করেছেন, আর্টিকেল ৩৭০ বাতিলের পর ২০১৯ সাল থেকে সরকার তার পুরনো মামলাগুলো আবার সামনে এনেছে। এখন এনআইএ তার যাবজ্জীবন কারাদণ্ডকে ফাঁসিতে রূপান্তর করার দাবি জানিয়েছে।