‘জেন-জেড’-এর গর্জন! পাক অধিকৃত কাশ্মীরে ফের শুরু ছাত্র বিক্ষোভ, শিক্ষা সংস্কার বিরোধী আন্দোলন ছড়াল পাকিস্তানে

আবারও উত্তাল হয়ে উঠেছে পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীর (PoK)। এবার রাজপথে নেমে এসেছেন PoK-র তরুণ প্রজন্ম, যারা নিজেদের ‘জেন-জেড’ (Gen-Z) নামে পরিচিত করেছেন। পাকিস্তান সরকারের বিতর্কিত শিক্ষা সংস্কার, বিশেষত শিক্ষাক্ষেত্রে বর্ধিত ফি এবং নতুন মূল্যায়ন পদ্ধতির বিরুদ্ধে এই শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ শুরু হয়েছিল। তবে বর্তমানে সেই আন্দোলন ধীরে ধীরে প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের নেতৃত্বাধীন সরকারের বিরুদ্ধে বৃহত্তর বিক্ষোভে পরিণত হচ্ছে এবং পাকিস্তানের বিস্তীর্ণ এলাকায় ছড়িয়ে পড়ছে।

এখনও পর্যন্ত পাওয়া খবর অনুযায়ী, ইউনিভার্সিটি অব কাশ্মীরের পড়ুয়ারাই এই আন্দোলনের নেতৃত্বে রয়েছে। চলতি মাসের গোড়ার দিকে এই প্রতিবাদ শুরু হয় এবং প্রায় এক সপ্তাহ ধরে চলেছিল শান্তিপূর্ণভাবে। কিন্তু সম্প্রতি একদল অজ্ঞাত বন্দুকধারী বিক্ষোভকারী ছাত্রদের ওপর গুলি চালায় বলে জানা যাচ্ছে। এই গুলিতে একজন ছাত্র আহত হয়েছেন।

সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া বেশ কিছু ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, মুজাফ্ফরবাদে একজন বিক্ষোভকারীকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হচ্ছে, যার ফলে গোটা এলাকায় তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। আন্দোলনকারীরা অভিযোগ করেছেন, পুলিশের উপস্থিতিতেই এই ঘটনা ঘটেছে। যদিও এই ভিডিওগুলির সত্যতা এশিয়ানেট নিউজ বাংলা যাচাই করেনি।

এই গুলির ঘটনার পরই বিক্ষোভকারীরা চরম ক্ষোভে ফেটে পড়েন। তাঁরা রাস্তায় টায়ার জ্বালিয়ে প্রতিবাদ জানান এবং পাক সরকারের বিরুদ্ধে স্লোগান দিতে থাকেন। বেশ কিছু জায়গায় অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এর আগে ২০২৪ সালেও সেমিস্টার ফি হিসেবে বিপুল অঙ্কের টাকা নেওয়ার প্রতিবাদে পড়ুয়ারা রাস্তায় নেমেছিলেন।

এবার বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়াদের সঙ্গে ইন্টারমিডিয়েটের পড়ুয়ারাও আন্দোলনে যোগ দিয়েছেন। নতুন শিক্ষাবর্ষে ডিজিটাল অ্যাসেসমেন্টের প্রবর্তনের বিরুদ্ধেও প্রতিবাদ জানাচ্ছে আন্দোলনকারীরা। পড়ুয়াদের মূল প্রশ্ন—কেন প্রথম বর্ষের পরীক্ষার ফল নির্ধারিত সময়ের অনেক পরে প্রকাশিত হচ্ছে এবং প্রত্যেকটি বিষয়ের জন্য কেন ১৫,০০০ টাকা ফি দিতে হবে?

এই আন্দোলন শুধু পাক অধিকৃত কাশ্মীরের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। লাহোর-সহ পাকিস্তানের একাধিক বড় শহরে এই জাতীয় ছাত্র বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ছে, যা শেহবাজ সরকারের ওপর চাপ বাড়াচ্ছে।