বছর ঘুরলেই রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন (Assembly Election)। এই নির্বাচনকে পাখির চোখ করে মরিয়া লড়াইয়ে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছে তৃণমূল কংগ্রেস। আর এই লক্ষ্যে এবার নিজ নিজ এলাকায় দলকে জেতানোর জন্য জনপ্রতিনিধি ও দলের নেতাদের নির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা বেঁধে দিল তৃণমূলের বাঁকুড়া ও বিষ্ণুপুর সাংগঠনিক জেলা নেতৃত্ব।
নেতৃত্বের স্পষ্ট হুঁশিয়ারি, দলকে জেতাতে না পারলে এলাকার নেতাদের পদ যেমন যাবে, তেমনই পরের নির্বাচনে দলীয় টিকিটও মিলবে না।
খারাপ ফলের পর মরিয়া তৃণমূল
২০২১ বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্যের মধ্যে তৃণমূলের সব থেকে খারাপ ফল হয়েছিল বাঁকুড়া জেলায়। জেলার ১২টি আসনের মধ্যে ৮টিতেই জয় পেয়েছিল বিজেপি। গত লোকসভা নির্বাচনেও বিষ্ণুপুর আসনে হারতে হয়েছে তৃণমূলকে। এই পরিস্থিতিতে ২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনকে পাখির চোখ করে মরিয়া লড়াইয়ে নামতে চাইছে শাসকদল।
উৎসবের মরশুম মিটতে না মিটতেই জেলার বিভিন্ন ব্লক ও শহরের বিজয়া সম্মিলনীর মঞ্চ থেকে দলের জনপ্রতিনিধি ও নিচু স্তরের নেতাদের কার্যত হুঁশিয়ারি দিতে শোনা যাচ্ছে।
বিষ্ণুপুর জেলা সভাপতির হুঁশিয়ারি: গতকাল বাঁকুড়া ২ নম্বর ব্লকের বিজয়া সম্মিলনীর মঞ্চ থেকে তৃণমূলের বিষ্ণুপুর সাংগঠনিক জেলা সভাপতি সুব্রত দত্ত বলেন, “নিজের এলাকায় দলকে জেতাতে হবে। তবেই সে পদে থাকতে পারবে। না হলে দল বা জনপ্রতিনিধির পদে বসে থেকে দাদাগিরি করতে দেওয়া হবে না।”
সাংসদ অরূপ চক্রবর্তীর বার্তা: আবার বাঁকুড়া শহরের বিজয়া সম্মিলনীর মঞ্চ থেকে তৃণমূল সাংসদ অরূপ চক্রবর্তী পুরসভার কাউন্সিলারদের উদ্দেশ্য করে স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “যে কাউন্সিলর নিজের এলাকায় দলকে জেতাতে পারবে না, সেই কাউন্সিলর আগামী পুর নির্বাচনে টিকিট পাবেন না।”
তৃণমূলের বাঁকুড়া সাংগঠনিক জেলা সভাপতি তারাশঙ্কর রায়ও বিজয়া সম্মিলনীর একাধিক মঞ্চ থেকে দলের নেতাদের মধ্যে দ্বন্দ্ব নিয়ে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
বিজেপির কটাক্ষ
তৃণমূল নেতৃত্বের এই মন্তব্যের পরই শুরু হয়েছে রাজনৈতিক জল্পনা। বিজেপির কটাক্ষ, ২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনে নিশ্চিত পরাজয় জেনেই এমন মন্তব্য করছেন তৃণমূল নেতৃত্ব। বিজেপির দাবি, গোষ্ঠীদ্বন্দে জর্জরিত তৃণমূলকে এখন হারের আতঙ্ক গ্রাস করেছে। তাই এই ধরনের কথা বলে মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছে তৃণমূল।