এক দশক আগে ‘দেশবিরোধী স্লোগান’ বিতর্কে তোলপাড় হয়েছিল জেএনইউ। ২০১৬ সালের সেই স্মৃতি ফিরিয়ে দিয়ে ২০২৬ সালেও এক বড়সড় সংঘাতের কেন্দ্রে দিল্লির জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়। তবে এবার অভিযোগের ধরন আলাদা। বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে প্রথমবার, ছাত্র সংসদের (JNUSU) নির্বাচিত চারজন পদাধিকারী এবং এক প্রাক্তন সভাপতিকে একযোগে সাসপেন্ড করল প্রশাসন। তাঁদের জন্য ২০২৬-এর শীতকালীন ও বর্ষাকালীন সেমেস্টারে ক্যাম্পাস সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
শাস্তির কারণ ও প্রেক্ষাপট: বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দাবি, ২০২৫ সালের ২১ নভেম্বর লাইব্রেরিতে সিসিটিভি এবং মুখ শনাক্তকরণ (ফেসিয়াল রিকগনিশন) গেট ভাঙচুরের ঘটনায় প্রায় ২০ লক্ষ টাকার সরকারি সম্পত্তি নষ্ট হয়েছে। প্রোক্টোরিয়াল তদন্তের পর বর্তমান সভাপতি আদিতি মিশ্র, সহ-সভাপতি গোপিকা বাবু, সাধারণ সম্পাদক সুনীল যাদব, যুগ্ম সম্পাদক দানিশ আলি এবং প্রাক্তন সভাপতি নীতিশ কুমারকে ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা ও দুই সেমেস্টারের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে।
ভিন্নমত দমনের অভিযোগ: বামপন্থী ছাত্র সংগঠন আইসা (AISA) ও এসএফআই (SFI) এই শাস্তিকে ‘রাজনৈতিক প্রতিহিংসা’ বলে বর্ণনা করেছে। ছাত্র সংসদের দাবি, ইউজিসি-র প্রস্তাবিত ‘ইকুইটি রুলস’-এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করায় তাঁদের টার্গেট করা হয়েছে। সাধারণ সম্পাদক সুনীল যাদব বলেন, “সুপ্রিম কোর্ট যে নিয়ম স্থগিত রেখেছে, তার প্রতিবাদ করার ঠিক পরদিনই আমাদের এই নোটিশ ধরানো হলো।”
উপাচার্যের পদত্যাগ দাবি: এই ঘটনার জেরে উপাচার্য শান্তিশ্রী ধুলিপুড়ি পণ্ডিতের অপসারণ দাবি করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের একাংশ শিক্ষক। তাঁদের অভিযোগ, ক্যাম্পাসে একনায়কতান্ত্রিক পরিবেশ তৈরি করা হচ্ছে। প্রাক্তনীদের একাংশের মতে, জেএনইউ আজও সমালোচনামূলক চিন্তার প্রতীক, আর সেই কারণেই বারবার শাসকগোষ্ঠীর রোষানলে পড়ছে এই প্রতিষ্ঠান।