মারণ রোগ ক্যানসারকে দূরে রাখতে চান? জীবনযাত্রায় আজই বদল আনুন এই ৭টি কৌশলে!

আজকের ব্যস্ত ও যান্ত্রিক জীবনযাত্রায় নানা ধরণের জটিল রোগ আমাদের শরীরকে গ্রাস করে চলেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে ভয়ংকর ও প্রাণঘাতী রোগগুলির একটি হলো ক্যানসার। বিশ্বজুড়ে প্রতি বছর লক্ষ লক্ষ মানুষ এই মারণ রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। তবে চিকিৎসকদের মতে, ক্যানসার মানেই যে নিশ্চিত মৃত্যু তা নয়। একটু সচেতনতা, সঠিক জীবনধারা এবং দৈনন্দিন কিছু স্বাস্থ্যকর অভ্যাস গড়ে তুললে এই ভয়াবহ রোগ থেকে দূরে থাকা অনেকটাই সম্ভব। আধুনিক বিজ্ঞান ও চিকিৎসা গবেষণার ওপর ভিত্তি করে বিশেষজ্ঞরা ক্যানসারের ঝুঁকি কমানোর জন্য অত্যন্ত কার্যকরী ৭টি সুনির্দিষ্ট কৌশলের কথা জানিয়েছেন।
প্রথম এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কৌশলটি হলো স্বাস্থ্যকর ও পুষ্টিকর খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলা। প্রক্রিয়াজাত মাংস, অতিরিক্ত তেল-মশলাযুক্ত খাবার এবং জাঙ্ক ফুড খাওয়ার অভ্যাস ক্যানসারের ঝুঁকি বহুলাংশে বাড়িয়ে দেয়। এর পরিবর্তে খাদ্যতালিকায় প্রচুর পরিমাণে ফ্রেশ শাকসবজি, মৌসুমি ফল, হোল গ্রেইন বা গোটা শস্য এবং ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার রাখা উচিত। ফল ও সবজিতে থাকা শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরের কোষগুলোকে রক্ষা করে এবং ক্যানসার কোষের বৃদ্ধি প্রতিহত করতে সাহায্য করে।
দ্বিতীয়ত, শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম করা অত্যন্ত জরুরি। স্থূলতা বা অতিরিক্ত ওজনের সঙ্গে বেশ কয়েক প্রকার ক্যানসারের সরাসরি যোগ রয়েছে। প্রতিদিন অন্তত ৩০ থেকে ৪০ মিনিট যেকোনো ধরনের শারীরিক কসরত, যেমন দ্রুত হাঁটা, সাইক্লিং বা ইয়োগা করা উচিত। তৃতীয়ত, ধূমপান এবং তামাক সেবনের অভ্যাস চিরতরে বর্জন করতে হবে। তামাকজাত পণ্যের মধ্যে থাকা ক্ষতিকারক রাসায়নিক ফুসফুস, মুখ এবং গলার ক্যানসারের প্রধান কারণ হিসেবে বিবেচিত হয়।
চতুর্থ কৌশল হিসেবে অ্যালকোহল বা মদ্যপানের মাত্রা কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। অতিরিক্ত মাত্রায় অ্যালকোহল গ্রহণের ফলে লিভার ও পরিপাকতন্ত্রে ক্যানসার বাসা বাঁধতে পারে। পঞ্চম গুরুত্বপূর্ণ দিকটি হলো ত্বককে সূর্যের ক্ষতিকারক অতিবেগুনি রশ্মি বা ইউভি রে থেকে রক্ষা করা। দীর্ঘ সময় রোদে থাকার সময় সানস্ক্রিন ব্যবহার এবং শরীর ঢাকা পোশাক পরা ত্বকের ক্যানসারের ঝুঁকি কমায়।
ষষ্ঠত, নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা বা ক্যানসার স্ক্রিনিং করানোর অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। অনেক সময় প্রাথমিক পর্যায়ে ক্যানসার ধরা পড়লে তা সম্পূর্ণ নিরাময় করা সম্ভব হয়। সপ্তম এবং শেষ কৌশলটি হলো মানসিক চাপ মুক্ত থাকা এবং পর্যাপ্ত পরিমাণে ঘুম নিশ্চিত করা। দীর্ঘমেয়াদি মানসিক অবসাদ শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল করে দেয়, যা পরোক্ষভাবে মারাত্মক রোগের পথ প্রশস্ত করে। পরিশেষে বলা যায়, সামান্য সচেতনতা এবং নিয়মানুবর্তিতা আপনার জীবনকে সুরক্ষিত রাখতে পারে। আজই এই ৭টি কৌশল মেনে চলুন এবং সুস্থ থাকুন।