ময়েশ্চারাইজার মেখেও কাজ হচ্ছে না? ডেইলিয়ান্টে ভাইরাল এই ঘরোয়া টোটকায় ত্বক হবে মাখনের মতো নরম!

আরামদায়ক আবহাওয়া, তেমনই ত্বকের জন্য তা এক বিরাট লড়াই। একটু ঠান্ডা হাওয়া বইলেই মুখ, হাত ও পায়ের ত্বক কেমন যেন খটখটে ও বিবর্ণ হয়ে পড়ে। শুষ্কতার জেরে ত্বক ফেটে যাওয়া, সাদা আস্ত্রো পড়া কিংবা টান ধরার মতো অস্বস্তিকর সমস্যায় কমবেশি সবাইকেই ভুগতে হয়। বাজারে উপলব্ধ হাজারো দামি বডি লোশন বা ময়েশ্চারাইজার মেখেও অনেক সময় এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান মেলে না। বরং কেমিক্যালযুক্ত প্রসাধনীর অতি ব্যবহারে ত্বকের প্রাকৃতিক আর্দ্রতা আরও নষ্ট হতে শুরু করে। তাই শুষ্ক ও রুক্ষ ত্বকের যন্ত্রণা থেকে চিরতরে মুক্তি পেতে এবং প্রাকৃতিকভাবে উজ্জ্বল ত্বক পেতে ঘরোয়া উপাদানের ওপর ভরসা রাখাই সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ।
ত্বকের এই খটখটে ভাব দূর করতে এবং গভীর থেকে আর্দ্রতা ফিরিয়ে আনতে মধু এবং দুধের জুড়ি মেলা ভার। খাঁটি মধুর মধ্যে থাকা প্রাকৃতিক হিউমেকট্যান্ট বা আর্দ্রতাকর্ষক উপাদান বাতাস থেকে জল টেনে ত্বককে দীর্ঘক্ষণ হাইড্রেট রাখে। এক চামচ মধুর সঙ্গে সমপরিমাণ কাঁচা দুধ মিশিয়ে একটি মিশ্রণ তৈরি করে মুখে ও হাতে ম্যাসাজ করলে দারুণ ফল পাওয়া যায়। অন্যদিকে, মালাই বা সরের ব্যবহারও শুষ্ক ত্বকের জন্য মহৌষধ হিসেবে কাজ করে। দুধের সর ত্বকের ফেটে যাওয়া অংশ মেরামত করে এবং ত্বককে করে তোলে কোমল ও মসৃণ।
বাইরের যত্নের পাশাপাশি ত্বকের পুষ্টির জন্য ঘরোয়া উপায়ে একটি প্রাকৃতিক ফেসপ্যাক বানিয়ে নিতে পারেন। পাকা কলা চটকে তার সঙ্গে সামান্য মধু ও কয়েক ফোঁটা আমন্ড অয়েল মিশিয়ে একটি প্যাক তৈরি করুন। কলাতে থাকা পটাশিয়াম ও ভিটামিন ত্বকের মৃত কোষ দূর করে এবং নতুন কোষ গঠনে সাহায্য করে। সপ্তাহে অন্তত দুবার এই প্যাকটি ব্যবহার করলে ত্বকের জৌলুস এক নিমেষে বহুগুণ বেড়ে যায়। গোসলের পর বা রাতে ঘুমানোর আগে সামান্য নারকেল তেল বা অলিভ অয়েল ত্বকে মালিশ করলেও রুক্ষতা দূরে পালায়।
বাহ্যিক পরিচর্যার পাশাপাশি পর্যাপ্ত পরিমাণে জল পান করা শুষ্ক ত্বকের চিকিৎসায় সবচেয়ে বড় শর্ত। শীতকালে অনেক সময় তেষ্টা কম পাওয়ায় আমরা কম জল খাই, যার জেরে ত্বক ভেতর থেকে শুষ্ক হয়ে যায়। প্রতিদিন অন্তত আট থেকে দশ গ্লাস জল, ফলের রস এবং স্যুপ জাতীয় খাবার খেলে শরীর হাইড্রেটেড থাকে। এছাড়া খাদ্যতালিকায় বাদাম, বীজ এবং ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিডযুক্ত খাবার রাখলে ত্বকের ইলাস্টিসিটি বজায় থাকে।
পরিশেষে বলা যায়, সামান্য কিছু সচেতনতা এবং রান্নাঘরে উপস্থিত সহজলভ্য উপাদানের সঠিক ব্যবহারেই শুষ্ক ত্বকের যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব। কেমিক্যাল প্রসাধনীর মায়া ছেড়ে আজই এই ঘরোয়া উপায়গুলো মেনে চলুন এবং নিজের ত্বকে ফিরিয়ে আনুন হারানো দীপ্তি ও কোমলতা।