জীবনদান পেতেই মহাতাণ্ডব! সুযোগের সদ্ব্যবহার করে দুর্দান্ত সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে উইন্ডিজকে নাস্তানাবুদ করলেন শুভমান গিল!

সাম্প্রতিক ইংল্যান্ড সফরে ওডিআই সিরিজে ভালো লড়াই করেও শতকের খরা কাটেনি। এরপর শ্রীলঙ্কা সফরে টেস্ট সিরিজেও ব্যাটে রান না পাওয়ায় কিছুটা চাপে ছিলেন। তবে সমালোচকদের মুখের ভাষা কেড়ে নিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে ওডিআই সিরিজের প্রথম ম্যাচেই ব্যাট হাতে ঝড় তুললেন ভারতীয় দলের অধিনায়ক শুভমান গিল। তিরুবনন্তপুরমের গ্রিনফিল্ড স্টেডিয়ামে হাজার হাজার দর্শকের সামনে নিজের জাত চিনিয়ে একটি রাজকীয় ও অত্যন্ত দায়িত্বপূর্ণ সেঞ্চুরি উপহার দিলেন তিনি।
২০২৩ সালের পর কেরলের এই মাঠে এটি ছিল ভারতের মাত্র তৃতীয় ওডিআই ম্যাচ এবং গিলের কেরিয়ারের দ্বিতীয়। দীর্ঘ সাড়ে তিন বছর পর ফের এই মাঠে নেমে টানা দ্বিতীয় সেঞ্চুরি হাঁকানোর অনন্য কীর্তি গড়লেন তিনি। তবে এবারের সেঞ্চুরির ওজন সম্পূর্ণ আলাদা; কারণ গতবার ওপেনার হিসেবে খেললেও, এবার তিনি দলের অধিনায়ক হিসেবে দলকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়ে এই মাইলফলক স্পর্শ করলেন। একই সঙ্গে এটি তাঁর ওডিআই কেরিয়ারের দশম শতক।
জীবনদান পেতেই বদলে গেল ম্যাচের চিত্র
এদিন ২৯৬ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুটা দারুণ করেছিলেন রোহিত শর্মা ও শুভমান গিল। তবে ইনিংসের শুরুতেই বড় বিপদের মুখে পড়তে পারতেন ভারত অধিনায়ক। ব্যক্তিগত মাত্র ১১ রানের মাথায় ব্যাকওয়ার্ড পয়েন্টে এক সহজ ক্যাচ ফেলে দেন উইন্ডিজ ফিল্ডার। সেই জীবনদানকে সম্পূর্ণ কাজে লাগিয়ে এরপর আর পিছন ফিরে তাকাতে হয়নি গিলকে। রোহিত আউট হওয়ার পর বিরাট কোহলির সঙ্গে ক্রিজে জমে যান তিনি। দুই অভিজ্ঞ তারকার চওড়া ব্যাটে ভর করে রানের গতি হুড়মুড়িয়ে বাড়তে থাকে।
মাত্র ৯৬ বলে একটি চোখধাঁধানো অন-ড্রাইভ বাউন্ডারির সাহায্যে নিজের শতক পূর্ণ করেন গিল। চলতি বছরে এটি তাঁর দ্বিতীয় ওডিআই সেঞ্চুরি এবং ওডিআই ফরম্যাটে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে এটিই তাঁর প্রথম শতরান। শেষ পর্যন্ত ১৩টি চার ও ১টি ছক্কার সাহায্যে ১১০ রানের এক দুর্দান্ত ইনিংস খেলে আউট হন তিনি। বিরাট কোহলির সঙ্গে তাঁর গড়া ১৫১ রানের বিশাল জুটিই টিম ইন্ডিয়ার জয়কে সহজ করে দেয় এবং সমালোচকদের সমস্ত সমালোচনার যোগ্য জবাব দেয়।