সম্প্রতি কলকাতার নিউ মার্কেটের অবৈধ নির্মাণ বা উচ্ছেদ অভিযানে গর্জে উঠেছে বুলডোজার। যে কোনও বড় নির্মাণকাজ হোক বা রাস্তা খোঁড়া—হলুদ রঙের সেই অতিকায় যন্ত্রটির দেখা মেলেই। আমরা অভ্যাসবশত একে ‘জেসিবি’ (JCB) বলেই ডাকি। কিন্তু আপনি কি জানেন, যন্ত্রটির নাম আদতে জেসিবি নয়? আপনার হাতে থাকা ফোনটি যেমন ‘স্যামসাং’ বা ‘আইফোন’ কোম্পানির হতে পারে, ঠিক তেমনই জেসিবি একটি ব্রিটিশ বহুজাতিক সংস্থার নাম মাত্র।
আসলে এই যন্ত্রটির নাম কী?
সহজ ভাষায় যাকে আমরা জেসিবি মেশিন বলি, ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ভাষায় তার আসল নাম হলো ‘ব্যাকহো লোডার’ (Backhoe Loader)। মজার বিষয় হলো, এই যন্ত্রটির দুই দিকেই কাজ করার ক্ষমতা রয়েছে। একদিকে এটি মাটি খুঁড়তে পারে এবং অন্যদিকে ভারী জিনিস তুলে অন্যত্র সরাতে পারে। এটি চালানো সাধারণ গাড়ি বা বাইকের চেয়ে অনেক বেশি জটিল। এতে স্টিয়ারিংয়ের পাশাপাশি ক্রেনের মতো বিশেষ লিভার ব্যবহার করা হয়।
কেন একে জেসিবি বলা হয়?
এই যন্ত্রটির নির্মাণকারী সংস্থার নাম হলো ‘জোসেফ সিরিল বামফোর্ড এক্সকাভেটরস লিমিটেড’। সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা জোসেফ সিরিল বামফোর্ড (Joseph Cyril Bamford)-এর নামের আদ্যক্ষর নিয়েই তৈরি হয়েছে ‘JCB’। যন্ত্রের গায়ে বড় হরফে কোম্পানির নাম লেখা থাকে বলেই সাধারণ মানুষের কাছে এটি জেসিবি নামেই পরিচিতি পেয়ে গিয়েছে। ঠিক যেমন অনেক সময় আমরা সব ব্র্যান্ডের টুথপেস্টকেই ‘কোলগেট’ বা সব ডিটারজেন্টকেই ‘সার্ফ’ বলে ফেলি।
যন্ত্রটির গঠন কেমন?
বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি মূলত তিনটি যন্ত্রের একটি সংমিশ্রণ— ট্রাক্টর, লোডার এবং ব্যাকহো।
লোডার: সামনের বড় অংশটি ভারী মালপত্র তোলার কাজে লাগে।
ব্যাকহো: পেছনের অংশটি মাটি খোঁড়ার কাজ করে।
স্টেবিলাইজার লেগ: টায়ার ছাড়াও এই যন্ত্রে দুটি লোহার পা থাকে যা কাজ করার সময় যন্ত্রটিকে ভারসাম্য রাখতে সাহায্য করে।
ভারতে জেসিবির সাম্রাজ্য
বর্তমানে ভারতে জেসিবির ব্যাপক আধিপত্য রয়েছে। দেশের পাঁচটি শহরে এদের কারখানা রয়েছে এবং গুজরাটের ভাদোদরায় ষষ্ঠ কারখানাটির কাজ চলছে। শুধু ব্যাকহো লোডারই নয়, সংস্থাটি এক্সকাভেটর, কম্প্যাক্টর এবং জেনারেটরও তৈরি করে। ভারত থেকে তৈরি হওয়া এই মেশিনগুলো এখন বিশ্বের ১১০টিরও বেশি দেশে রফতানি করা হচ্ছে।





