২০২৬-এর বিধানসভা ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণার ঠিক আগেই বড়সড় বিতর্কে জড়ালেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (CEC) জ্ঞানেশ কুমার। মঙ্গলবার কলকাতায় এক সাংবাদিক বৈঠকে তিনি বাংলার মনীষীদের নিয়ে কথা বলতে গিয়ে ‘জাতীয় সঙ্গীত’ এবং ‘জাতীয় গান’-এর মধ্যে গুলিয়ে ফেলেছেন বলে অভিযোগ তুলেছেন রাজ্যের মন্ত্রী তথা তৃণমূল নেতা ব্রাত্য বসু। ব্রাত্য বসুর দাবি, জ্ঞানেশ কুমার ভারতের জাতীয় সঙ্গীত ‘জনগণমন’-কে ‘জাতীয় গান’ (National Song) হিসেবে উল্লেখ করেছেন, যা একজন উচ্চপদস্থ সাংবিধানিক আধিকারিকের কাছ থেকে অনভিপ্রেত।
এদিন সাংবাদিক বৈঠকে জ্ঞানেশ কুমার যখন বাংলায় বক্তব্য শুরু করেন, তখন তিনি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের প্রসঙ্গ উত্থাপন করেন। ব্রাত্য বসুর অভিযোগ, সেই সময়েই তিনি জাতীয় সঙ্গীতকে জাতীয় গান বলে ফেলেন। টুইটারে (X) সরব হয়ে ব্রাত্য বসু লেখেন, “আমাদের দেশের অন্যতম উচ্চপদস্থ সাংবিধানিক আধিকারিক শ্রী জ্ঞানেশ কুমার জি জানেনই না কোনটা আমাদের জাতীয় গান আর কোনটা আমাদের জাতীয় সঙ্গীত! আজ উনি ‘জনগণমন’-কে জাতীয় গান হিসেবে বর্ণনা করেছেন।” ব্রাত্য বসুর এই কটাক্ষের পর নেটপাড়ায় শুরু হয়েছে তর্জা।
তৃণমূলের অভিযোগ, নির্বাচন কমিশন বাংলার আবেগ নিয়ে খেলছে অথচ বাংলার সংস্কৃতি বা ইতিহাস সম্পর্কে তাদের প্রাথমিক জ্ঞানটুকুও নেই। অন্যদিকে, বিরোধীরা এই অভিযোগকে স্রেফ ‘শব্দ নিয়ে রাজনীতি’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে। তবে ভোটের আগে নির্বাচন কমিশনের মতো নিরপেক্ষ প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্তার এই ভুল (যদি হয়ে থাকে) যে শাসকদল তৃণমূলের হাতে নতুন অস্ত্র তুলে দিল, তা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। জ্ঞানেশ কুমারের এই বক্তব্যের ভিডিও ইতিমধ্যেই সমাজমাধ্যমে ভাইরাল হতে শুরু করেছে।