জাতিগত বিদ্বেষের বলি তরুণ! তফশিলি জাতির প্রেমিকের হত্যাকাণ্ডেও থামল না প্রেম, প্রেমিকার পরিবার-সহ ৮ জন গ্রেফতার

প্রেমের সম্পর্কের মর্মান্তিক পরিণতি দেখল দেশ। বিয়ের আলোচনার নাম করে বাড়িতে ডেকে ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ুয়াকে পিটিয়ে খুন করার অভিযোগ উঠেছে প্রেমিকার পরিবারের বিরুদ্ধে। অন্যদিকে, মহারাষ্ট্রে জাতপাতের বিদ্বেষে খুন হওয়া তফশিলি প্রেমিকের শেষকৃত্যে গিয়ে তাঁর নিথর দেহেই সিঁদুর পরিয়ে দিলেন তরুণী।

তেলেঙ্গানার সাঙ্গারেড্ডি জেলায় ১৯ বছর বয়সি ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ুয়া জ্যোতি শ্রবণ সাঁই-এর খুনের ঘটনায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, সেন্ট পিটার্স ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের কম্পিউটার সায়েন্সের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র শ্রবণ শ্রীজা নামের এক তরুণীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে ছিলেন। শ্রীজার পরিবার এই সম্পর্ক মেনে নেয়নি এবং একাধিকবার শ্রবণকে হুমকিও দিয়েছিল।

ঘটনার দিন শ্রীজার পরিবার শ্রবণকে বাড়িতে ডেকে পাঠায় বিয়ের আলোচনার অজুহাতে। শ্রবণ সেখানে পৌঁছালে শ্রীজার মা সহ পরিবারের সদস্যরা তাঁকে ক্রিকেট ব্যাট দিয়ে বেধড়ক মারধর করেন। শ্রবণের মাথায় গুরুতর চোট লাগে এবং তাঁর দুটো পা ভেঙে যায়। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁকে বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ক্রিকেট ব্যাট উদ্ধার করে খুনের মামলা রুজু করেছে।

দিন কয়েক আগে মহারাষ্ট্রের নান্দেদে একই ধরনের একটি ঘটনা ঘটেছিল। তফশিলি জাতির তরুণ সক্ষম তাতে-এর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে আপত্তি ছিল তরুণী আঁচলের পরিবারের। সক্ষমকে পরিবারের সদস্যরা নির্মমভাবে খুন করে। এই ঘটনার পর আঁচল প্রেমিকের শেষকৃত্যে পৌঁছন এবং সক্ষমের নিথর হাত দিয়ে নিজের সিঁথি সিঁদুরে রাঙিয়ে তোলেন।

আঁচল জানিয়েছেন, তাঁদের তিন বছরের প্রেম ছিল। সক্ষমকে খুন করার পর তিনি ঘোষণা করেন, তিনি সক্ষমের বিধবা স্ত্রী হিসেবে বাকি জীবন শ্বশুরবাড়িতেই কাটাবেন। তিনি বলেন, “আমাদের ভালোবাসা জিতেছে, আমার বাবা এবং ভাইয়েরা হেরে গিয়েছে।” তিনি তাঁর পরিবারের সদস্যদের মৃত্যুদণ্ড দাবি করেন। পুলিশ ১২ ঘণ্টার মধ্যে আঁচলের বাবা-মা, ভাই সহ মোট আটজনকে গ্রেফতার করেছে। আঁচলের অভিযোগ, সক্ষম তফশিলি জাতির ছিল বলেই তাঁর পরিবার এই খুন করেছে।