২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের পারদ চড়তে শুরু করেছে বাংলায়। আর সেই লড়াইয়ের কেন্দ্রবিন্দুতে বরাবরের মতোই রয়েছে হাই-প্রোফাইল কেন্দ্র নন্দীগ্রাম। আজ, ১৯ এপ্রিল, নন্দীগ্রামের বিরুলিয়ায় এক নির্বাচনী জনসভা থেকে রাজ্য সরকারকে কার্যত নজিরবিহীন ভাষায় আক্রমণ করলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী।
কী বললেন শুভেন্দু? নন্দীগ্রামের একাধিক এলাকায় পানীয় জল প্রকল্পের কাজ থমকে থাকা নিয়ে আজ সরব হন শুভেন্দু। তিনি অভিযোগ করেন, রাজ্য সরকারের অপদার্থতা ও অসহযোগিতার কারণে সাধারণ মানুষ জল পাচ্ছেন না। জনসভা থেকে তাঁর সপাট প্রশ্ন:
“এই জল শুধু হিন্দুরা খেত না, আজহারও খেত!” শুভেন্দু বোঝাতে চেয়েছেন যে জল প্রকল্পের সুবিধা সব ধর্মের মানুষের পাওয়ার কথা ছিল, কিন্তু তৃণমূলের রাজনীতির কারণে সবাই বঞ্চিত হচ্ছেন। ‘আজহার’ নাম উল্লেখ করে তিনি কৌশলে সংখ্যালঘুদের বঞ্চনার ইস্যুও উসকে দিয়েছেন।
প্রকল্পের কাজ বন্ধ: তাঁর দাবি, কেন্দ্রীয় সরকারের ‘জল জীবন মিশন’-এর আওতায় কাজ হওয়ার কথা থাকলেও রাজ্য সরকার কাজ এগোতে দিচ্ছে না।
তৃণমূলকে তোপ: বিরোধী দলনেতা বলেন, “তৃণমূল কেবল কাটমানি খাওয়ার জন্যই প্রকল্প আটকে রাখে।”
নন্দীগ্রামের লড়াই ও পবিত্র কর: নন্দীগ্রামে এবার শুভেন্দু অধিকারীর মূল প্রতিপক্ষ হিসেবে উঠে এসেছেন তৃণমূলের পবিত্র কর। বিরুলিয়ার সভা থেকে পবিত্র করকে নিয়েও মুখ খোলেন শুভেন্দু। তাঁর দাবি, নন্দীগ্রামের মানুষ “বহিরাগত” বা “ভাড়াটে” কাউকে মেনে নেবে না।
তৃণমূলের পাল্টা জবাব: শুভেন্দুর এই অভিযোগের পর তৃণমূলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শুভেন্দু অধিকারীর পায়ের তলা থেকে মাটি সরে গিয়েছে বলেই তিনি এখন সাম্প্রদায়িক কার্ড খেলার চেষ্টা করছেন এবং ভিত্তিহীন অভিযোগ তুলছেন। পানীয় জলের কাজ দ্রুত শেষ করা হচ্ছে বলেও শাসক দলের দাবি।
নির্বাচনী উত্তাপের অন্যান্য খবরাখবর (Trending)
ঝাড়গ্রামে মোদী: আজ ঝাড়গ্রামের রাস্তায় ১০ টাকার ঝালমুড়ি খেয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় ঝড় তুলেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।
বিজেপির অটোতে আগুন: নির্বাচনী প্রচার সেরে ফেরার পথে বিজেপির একটি অটোতে আগুন লাগিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তৃণমূলের বিরুদ্ধে, যা নিয়ে এলাকায় উত্তেজনা তুঙ্গে।
উপসংহার: ২০২৬-এর নির্বাচনে নন্দীগ্রামের জল-সমস্যা যে একটি বড় ইস্যু হতে চলেছে, তা শুভেন্দুর আজকের ভাষণেই স্পষ্ট। নন্দীগ্রামের মানুষ শেষ পর্যন্ত উন্নয়নের ওপর ভরসা রাখেন না কি রাজনৈতিক বাদানুবাদের ওপর, তা ইভিএম-ই বলবে।





