জলের উপর রঙিন আলোর খেলা, মণ্ডপ নয় যেন স্থাপত্য! ৩০ লক্ষ টাকা খরচে বহরমপুরের এই পুজোয় কী বিশেষ চমক?

দীর্ঘ ২৫ বছর পর আবার নতুন করে শুরু হয়েছে বহরমপুর শহরের লালদীঘিতে দুর্গাপুজো। আর এই প্রত্যাবর্তন ঘিরেই জেলাবাসীর মধ্যে এখন প্রবল উদ্দীপনা। এবারের এই পুজোর মূল আকর্ষণ হলো— দিল্লির লোটাস টেম্পলের (কমল মন্দির) আদলে তৈরি করা হয়েছে বিশাল মণ্ডপসজ্জা।
উদ্বোধন ইতিমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে এবং ষষ্ঠীর সন্ধ্যা থেকেই লালদীঘির চারপাশে দর্শকদের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। পুজোর প্রস্তুতি পর্ব থেকেই শহর তথা জেলাবাসীর মনে এই পুজো নিয়ে কৌতূহল ছিল তুঙ্গে। অবশেষে সেই প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে সন্ধ্যা থেকেই আলোয় আলোয় সাজিয়ে তোলা হয়েছে লালদীঘির চারপাশ।
৩০ লক্ষ টাকার স্থাপত্য শৈলী ও বিশেষ আলোর খেলা
পুজো উদ্যোক্তারা মনে করছেন, এই মণ্ডপটি কেবল একটি মণ্ডপ নয়, এটি এক বিশেষ স্থাপত্য শৈলীর প্রতিফলন। পুজো কমিটির অন্যতম কর্মকর্তা নারুগোপাল মুখার্জি জানিয়েছেন, তাঁরা শহরবাসীর কথা মাথায় রেখে প্রায় ৩০ লক্ষ টাকার বেশি ব্যয়ে এই মণ্ডপসজ্জা ফুটিয়ে তুলেছেন।
এই থিমের বিশেষ আকর্ষণ হলো জলের ওপর রঙিন আলোর খেলা। এই আলোর চমক এবং থিমের বাহার ইতিমধ্যেই দর্শকদের নজর কেড়েছে। এই কারণেই মণ্ডপ দেখতে লালদীঘির পাড়ে জনজোয়ার নেমেছে।
কেন লোটাস টেম্পল?
লোটাস টেম্পল বা কমল মন্দির দিল্লিতে অবস্থিত বাহাই সম্প্রদায়ের পুজোর স্থানগুলোর মধ্যে অন্যতম। পদ্ম ফুলের মতো কারুকার্যের জন্য এটি অত্যন্ত বিখ্যাত এবং দিল্লি শহরের একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন কেন্দ্র।
পুজো কমিটির দাবি, যারা এখনও দিল্লি গিয়ে এই মন্দির দর্শন করতে পারেননি, তাদের কথা মাথায় রেখেই এই বিশেষ মণ্ডপসজ্জা বহরমপুর শহরে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। আগত দর্শকরাও জানিয়েছেন, দীর্ঘ ২৫ বছর পরে লালদীঘিতে এত সুন্দর থিম দেখতে পেয়ে তাঁরা সত্যই মনোমুগ্ধকর। আলোর বিশেষ খেলা তাদের সবচেয়ে বেশি মুগ্ধ করেছে।