উত্তর গোয়ার আরপোরা এলাকায় জনপ্রিয় নাইটক্লাব ‘বার্চ বাই রোমিও লেন’-এ ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ২৫ জন নিহত এবং ৬ জন আহত হওয়ার ঘটনার পর ফাঁস হলো চাঞ্চল্যকর তথ্য। জানা গিয়েছে, এই ক্লাবটি সম্পূর্ণ অবৈধভাবে নির্মাণ করা হয়েছিল এবং অবৈধ নির্মাণের জন্য পঞ্চায়েত আগেই ভাঙার নোটিস দিয়েছিল।
শনিবার রাতে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার পর পুরোনো অভিযোগগুলি আবার শিরোনামে আসে। প্রশ্ন উঠেছে, অবৈধ নির্মাণ থাকা সত্ত্বেও কেন প্রশাসন ক্লাবটি বন্ধ করার বা ভেঙে ফেলার ব্যবস্থা নেয়নি?
🛑 অবৈধ নির্মাণের কথা জানা ছিল প্রশাসনের
আরপোরা-নাগোয়া পঞ্চায়েত প্রধান রোশন রেডকার জানিয়েছেন, ক্লাবটির নির্মাণ লাইসেন্স এবং অগ্নিনির্বাপণ ও জরুরি পরিষেবা বিভাগের বাধ্যতামূলক এনওসি (NOC) ছিল না। এই কারণেই পঞ্চায়েত ‘বার্চ বাই রোমিও লেন’-এর নির্মাণ ভেঙে ফেলার নির্দেশ দিয়েছিল।
রেডকার বলেন, “তবে, পরবর্তীতে প্রোমোটাররা স্থগিতাদেশ পেয়ে নাইট ক্লাবটি নির্মাণের কাজ অব্যাহত রাখেন।” জানা যায়, তৎকালীন পঞ্চায়েত ডিরেক্টর হালার্নকার পঞ্চায়েতের ডেমোলিশন নোটিসে স্টে-অর্ডার বা স্থগিতাদেশ দিয়েছিলেন।
📩 জলাশয়ে ডুবে থাকা অস্থির কাঠামো: চিঠি এসেছিল আগেই
২০২৩ সালের ২১ ডিসেম্বর পঞ্চায়েত একটি চিঠি পেয়েছিল, যাতে বলা হয়েছিল, নাইটক্লাবটি জলাশয়ে ডুবে থাকা একটি অস্থির কাঠামোর ওপর তৈরি হচ্ছে, যা যেকোনো সময়ে ভেঙে যেতে পারে এবং বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। এর পরেই পঞ্চায়েত নড়েচড়ে বসে এবং মালিকপক্ষ প্রয়োজনীয় ছাড়পত্রের নথি দেখাতে পারেনি বলেই দাবি করা হয়।
👤 সরকারি ডিরেক্টর বরখাস্ত, সাসপেন্ড ৩ অফিসার
এই দুর্ঘটনার পর অবৈধ লাইসেন্স নিয়ে নাইটক্লাব পরিচালনার অনুমতি দেওয়ার দায়ে সরকার তৎকালীন পঞ্চায়েত ডিরেক্টর হালার্নকারকে বরখাস্ত (Dismiss) করেছে।
এছাড়াও নিয়ম ভাঙার অভিযোগে আরও তিন সরকারি অফিসারকে সাসপেন্ড করা হয়েছে।
এদিকে, দুর্ঘটনার পর থেকেই নাইটক্লাবের মালিক সৌরভ লুথরা ও তাঁর ভাই গৌরব লুথরা পলাতক। পুলিশ তাঁদের সন্ধানে রেড কর্নার নোটিস জারি করেছে বলে জানা গিয়েছে।