জরুরি মজুত কমে মাত্র ৬০ কোটি ব্যারেল! তেলের বাজারে বড় ধসের আশঙ্কায় কাঁপছে ভারত সহ গোটা বিশ্ব

বিশ্বের জরুরি তেলের মজুদ বিপজ্জনক হারে দ্রুত কমে আসছে। আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলমান যুদ্ধ এবং বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলে মারাত্মক বিঘ্ন ঘটার কারণে বিভিন্ন সরকার ও কোম্পানি বাধ্য হয়ে তাদের জরুরি মজুদ থেকে ১০০ কোটি ব্যারেলেরও বেশি তেল তুলে নিয়েছে। বর্তমানে বিশ্বের বাণিজ্যিক মজুদে ৬০০ কোটি ব্যারেলেরও কম তেল অবশিষ্ট রয়েছে, যার মাত্র ১০ শতাংশ বা তারও কম অংশ তাৎক্ষণিক ব্যবহারের জন্য উপলব্ধ রয়েছে। এর ফলে তেলের বাজার অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে এবং যেকোনো নতুন সরবরাহ সংকট গোটা বিশ্বকে এক গভীর সংকটের মুখে ঠেলে দিতে পারে।

পরিস্থিতি পর্যালোচনায় দেখা যায়, বিশ্বে প্রতিদিন প্রায় ১০৩ থেকে ১০৫ মিলিয়ন ব্যারেল তেল খরচ হয়। মাথাপিছু হিসাব অনুযায়ী যার পরিমাণ দৈনিক প্রায় ২.৫ লিটার। এই মোট চাহিদার সিংহভাগ জুড়ে রয়েছে ডিজেল ও গ্যাসঅয়েল, যা দৈনিক প্রায় ২৮.৭ থেকে ২৯ মিলিয়ন ব্যারেল ব্যবহৃত হয় এবং বিশ্ব অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে প্রধান ভূমিকা পালন করে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা পেট্রোল বা মোটর গ্যাসোলিনের দৈনিক ব্যবহার ২৬.৫ থেকে ২৭ মিলিয়ন ব্যারেল। এছাড়া পেট্রোকেমিক্যাল ফিডস্টক দৈনিক ১৪.৫ থেকে ১৬ মিলিয়ন ব্যারেল এবং জেট ফুয়েল প্রায় ৭.৮ থেকে ৮ মিলিয়ন ব্যারেল ব্যবহৃত হয়। জ্বালানি ব্যবহারের দিক থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র দৈনিক ২০.৩ থেকে ২০.৬ মিলিয়ন ব্যারেল ব্যবহার করে বিশ্বে শীর্ষে রয়েছে, ১৬.২ থেকে ১৬.৪ মিলিয়ন ব্যারেল ব্যবহার করে চীন দ্বিতীয় এবং দৈনিক ৫.৩ থেকে ৫.৬ মিলিয়ন ব্যারেল (প্রায় ৯২০ মিলিয়ন লিটার) তেল ব্যবহার করে ভারত রয়েছে তৃতীয় স্থানে।

বিশ্বে অপরিশোধিত তেলের মোট প্রমাণিত মজুদ প্রায় ১.৫৭ থেকে ১.৭৬ ট্রিলিয়ন ব্যারেল। বর্তমান হারে ব্যবহার চললে এই ভাণ্ডার দিয়ে বড়জোর ৫৭ বছর চলা সম্ভব। মজুদের দিক থেকে ভেনিজুয়েলা শীর্ষে থাকলেও (৩০৩ বিলিয়ন ব্যারেল) উত্তোলন খরচ বেশি হওয়ায় ২৬৭ বিলিয়ন ব্যারেল মজুদ নিয়ে সৌদি আরব সবচেয়ে সুবিধাজনক স্থানে রয়েছে। অন্যদিকে, ভারত বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম তেল ভোক্তা হওয়ায় এই বৈশ্বিক সংকট দেশের অর্থনীতিতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। তেলের ঘাটতি সরাসরি পেট্রোল-ডিজেলের দাম বৃদ্ধি, পরিবহন খরচ ও মুদ্রাস্ফীতি বাড়িয়ে দিতে পারে। তাই আতঙ্কিত না হয়ে কৌশলগত মজুদ মজবুত করা এবং বিকল্প শক্তির উৎসের ওপর জোর দেওয়াই এখন ভারতের প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত।