‘লাডলী বহনা’ নিয়ে বিপাকে মধ্যপ্রদেশ সরকার! বিপুল আর্থিক বোঝায় কপালে চিন্তার ভাঁজ মুখ্যমন্ত্রী মোহন যাদবের

মধ্যপ্রদেশের সবচেয়ে বড় জনকল্যাণমূলক প্রকল্প ‘লাডলী বহনা যোজনা’ চালাতে গিয়ে রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছে রাজ্য সরকার। কোটি কোটি টাকা বেরিয়ে যাওয়ায় তহবিলের ওপর যে বিশাল আর্থিক বোঝা তৈরি হয়েছে, তা নিয়ে এবার প্রকাশ্যে উদ্বেগ প্রকাশ করলেন মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী মোহন যাদব। তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক তরজা।

ভোপালের রবীন্দ্রভবনে এক অনুষ্ঠানে কনটেন্ট ক্রিয়েটর বিন্নু রানির সঙ্গে খোলামেলা কথোপকথনে মুখ্যমন্ত্রী স্বীকার করেন যে, এই প্রকল্পটির খরচ এত বেশি হবে এবং তা রাজ্যের কোষাগারে এমন মারাত্মক চাপ সৃষ্টি করবে, তা তিনি আগে বুঝতে পারেননি। প্রসঙ্গত, ২০২১ সালে পশ্চিমবঙ্গের ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্পের সাফল্যের পর দেশজুড়ে মহিলাভাতার হিড়িক পড়ে। সেই ধারায় ২০২৩ সালের মার্চ মাসে মধ্যপ্রদেশের তদানীন্তন মুখ্যমন্ত্রী শিবরাজ সিংহ চৌহান এই প্রকল্পের সূচনা করেছিলেন। প্রথমে মাসিক ১০০০ টাকা দিয়ে শুরু হলেও বর্তমানে তা বাড়িয়ে ১৫00 টাকা করা হয়েছে। এর ফলে প্রতি বছর শুধু এই বাবদ ২২,৬৮০ কোটি টাকা ব্যয় হচ্ছে।

তবে এই বিশাল আর্থিক ব্যয়ের কারণে প্রকল্পটিতে সাম্প্রতিক সময়ে বড় ধরনের কাটছাঁট লক্ষ্য করা গেছে। পরিসংখ্যান বলছে, ২০২৩ সালের জুন মাস থেকে এখনও পর্যন্ত প্রায় ৬ লক্ষ ২৫ হাজার মহিলাকে এই প্রকল্প থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। ২০২৩ সালের অক্টোবরের ১ কোটি ৩১ লক্ষ উপভোক্তার সংখ্যা কমে ২০২৬ সালের জানুয়ারি মাসে দাঁড়িয়েছে ১ কোটি ২৫ লক্ষে। এমনকি বর্তমানে নতুন করে নাম নথিভুক্ত করার প্রক্রিয়াও বন্ধ রয়েছে। বয়স ৬০ বছর পূর্ণ হওয়ায় বা নানা যাচাই প্রক্রিয়ার জেরে বহু উপভোক্তা বাদ পড়লেও নতুন নাম তোলার সুনির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা জানাতে পারেনি সরকার। বিরোধী দল কংগ্রেস ইতিমধ্যেই এই বিষয় নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছে।