‘আমার স্ত্রীর কোনো দোষ নেই…’ মৃত্যুর আগে না পরে? সাদ্দাম হোসেনের ভাইরাল ভিডিও ঘিরে চাঞ্চল্যকর মোড়

উত্তরপ্রদেশের মোরদাবাদ জেলার মাজহোলা থানার জয়ন্তিপুর ফাঁড়ির অন্তর্গত মিয়াঁ কলোনিতে প্রাক্তন কাউন্সিলর তথা কংগ্রেস নেতা সাদ্দাম হোসেনের মর্মান্তিক আত্মহত্যার ঘটনায় চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। তাঁর মৃত্যুর পরই সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিও দ্রুত ভাইরাল হয়, যা ঘিরে শহরজুড়ে শুরু হয় জোরদার বিতর্ক। তবে প্রয়াত নেতার পরিবার সামনে এসে এই ভিডিওর সত্যতা ফাঁস করে দাবি করেছে যে, ভাইরাল হওয়া ওই ভিডিওটি প্রায় এক বছর পুরনো এবং সাদ্দামের মৃত্যুর পর আইনি ব্যবস্থা থেকে বাঁচতে একটি বিশেষ ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে এটি ইচ্ছাকৃতভাবে ছড়ানো হয়েছে।

পরিবারের অভিযোগ, সাদ্দামের মৃত্যুর ঠিক আগের মুহূর্তে তাঁর মোবাইল ফোনে শেষ ভিডিও কলটি হয়েছিল তাঁর প্রথম স্ত্রী সামানের সঙ্গেই। প্রথম স্ত্রী ও তাঁর পরিবারের মানসিক নির্যাতন এবং প্ররোচনাতেই সাদ্দাম চরম পথ বেছে নিতে বাধ্য হয়েছেন বলে দাবি পরিবারের। যদিও বছরখানেক আগের ওই পুরোনো ভিডিওটিতে সাদ্দামকে বলতে শোনা গিয়েছিল যে, তাঁর দ্বিতীয় বিয়ের কারণে প্রথম স্ত্রী সামান ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন ক্ষুব্ধ হলেও তাঁরা সম্পূর্ণ নির্দোষ এবং নিজের ক্ষোভের বশবর্তী হয়ে তিনি নিজেকেই দায়ী করেছিলেন। কিন্তু পরিবারের স্পষ্ট বক্তব্য, বর্তমান মৃত্যুর ঘটনার সঙ্গে ওই পুরনো ভিডিওর কোনো সম্পর্ক নেই।

ঘটনার বিবরণ দিতে গিয়ে পুলিশ সুপার নগর রণবিজয় সিং জানান, মিয়াঁ কলোনির বাসিন্দা সাদ্দামের ঝুলন্ত মরদেহের খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই মাজহোলা থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়। প্রাথমিক তদন্তে গলায় ফাঁস লাগানোর ফলেই মৃত্যু হয়েছে বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। তবে সাদ্দামের পরিবারের সদস্যদের তীব্র সন্দেহ রয়েছে, কারণ নেতার আকস্মিক মৃত্যুর পরও তাঁর প্রথম স্ত্রী সামান, সন্তান কবির কিংবা শ্বশুরবাড়ির কেউই ঘটনাস্থলে উপস্থিত হননি। বর্তমানে পুলিশ নিহতের পরিবারের দায়ের করা লিখিত অভিযোগ, মোবাইল কলের ডিটেইলস এবং অন্যান্য ডিজিটাল প্রমাণের ওপর ভিত্তি করে পুরো বিষয়টি অত্যন্ত পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে তদন্ত করে দেখছে। পুলিশের তরফ থেকে জানানো হয়েছে, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এবং সমস্ত সাক্ষ্যপ্রমাণ হাতে আসার পরই এই মৃত্যুর প্রকৃত রহস্য উন্মোচিত হবে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।