জন্মশতবর্ষেই বড় উপহার! বাংলা সিনেমার ভবিষ্যৎ বদলাতে আসছে বিশাল ফিল্ম ইনস্টিটিউট!

মহানায়ক উত্তম কুমারের জন্মশতবর্ষের চার দিনের আবেগঘন উদযাপন পেরিয়ে এবার টলিউড এবং বাংলার সংস্কৃতি জগতের জন্য এক বিরাট ও দূরদর্শী পদক্ষেপ গ্রহণ করল রাজ্য সরকার। নিউ টাউনে আনুমানিক ২৫ কোটি টাকা ব্যয়ে গড়ে উঠতে চলেছে সর্বাধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্পন্ন ‘উত্তম কুমার ফিল্ম সেন্টার’ তথা ‘উত্তম কুমার ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউট’। সম্প্রতি এই মর্যাদাপূর্ণ প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন ও ভূমিপুজো সম্পন্ন হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের তথ্য ও সংস্কৃতি বিভাগের উদ্যোগে বাস্তবায়িত হতে চলা এই প্রকল্প কেবল মহানায়ককে শ্রদ্ধার্ঘ্য জানানোর মাধ্যমেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি আগামী দিনের বাংলা চলচ্চিত্র ও বিনোদন জগতকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে এক বিশাল পদক্ষেপ।
নন্দন প্রাঙ্গণে অত্যন্ত জাঁকজমকপূর্ণভাবে শুরু হওয়া এই জন্মশতবর্ষ উদযাপনের মঞ্চ থেকেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এই সুসংবাদ ঘোষণা করেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত বিশিষ্ট অভিনেতা রঞ্জিত মল্লিক, পরিচালক সন্দীপ রায় এবং প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের মতো ব্যক্তিত্বদের পাশাপশি ‘মহাগুরু’ মিঠুন চক্রবর্তীকে রাজ্য সরকারের নতুন ‘সাংস্কৃতিক উপদেষ্টা’ হিসেবে যুক্ত করার ঘোষণাও করা হয়েছে। তবে এই সমস্ত আয়োজনের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে নিউ টাউনের ২৫ কোটি টাকার এই মেগা ফিল্ম সেন্টার প্রকল্প। তিন ভাগে বিভক্ত এই সুবৃহৎ পরিকাঠামোটি আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে ঐতিহ্যকে দারুণভাবে মেলবন্ধন ঘটাবে।
প্রকল্পের প্রথম অংশে থাকছে ৭০০ থেকে ৭৫০ আসনের দুটি সুসজ্জিত সিনেমা হল, প্রিভিউ থিয়েটার, সুবিশাল ফুড কোর্ট এবং গাড়ি পার্কিংয়ের সুব্যবস্থা। দ্বিতীয় অংশে থাকবে ১০০০ আসনের একটি জমকালো অডিটোরিয়াম এবং একটি উন্মুক্ত বা ওপেন এয়ার থিয়েটার, যা নাটক ও সাংস্কৃতিক চর্চার এক দুর্দান্ত কেন্দ্র হয়ে উঠবে। পাশাপাশি, প্রকল্পটির তৃতীয় ও সবচেয়ে আকর্ষণীয় অংশে থাকছে এভিজিসি অর্থাৎ অ্যানিমেশন, ভিজ্যুয়াল এফেক্টস, গেমিং, কমিকস এবং এক্সটার্নাল রিয়েলিটির মতো অত্যাধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর পরিকাঠামো। এর সঙ্গেই থাকবে বিশ্বমানের পোস্ট-প্রোডাকশন ল্যাবরেটরি ও স্টুডিও।
বর্তমান যুগে বাংলা চলচ্চিত্রে ভিএফএক্স এবং অ্যানিমেশনের চাহিদা যেভাবে আকাশচুম্বী হয়েছে, তা মাথায় রেখেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতদিন এই ধরনের উন্নত প্রযুক্তির কাজের জন্য নির্মাতাদের অন্যান্য রাজ্যের ওপর নির্ভর করতে হতো। কিন্তু নিউ টাউনের এই নতুন সেন্টারের মাধ্যমে কলকাতার তরুণ প্রজন্ম ও উদীয়মান চলচ্চিত্র নির্মাতারা ঘরের কাছেই সমস্ত আধুনিক সুযোগ-সুবিধা পেয়ে যাবেন। ইতিমধ্যে প্রকল্পের মাটি পরীক্ষার কাজ শেষ হয়েছে এবং ডিটেইলড প্রজেক্ট রিপোর্ট বা ডিপ্রি তৈরির কাজ দ্রুতগতিতে চলছে। বর্ষা ঋতু শেষ হলেই পুরোদমে নির্মাণকাজ শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, এই উদ্যোগ কেবল চার দিনের কোনো ক্ষণস্থায়ী উৎসব বা উদযাপনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। বরং এটি এমন একটি দীর্ঘস্থায়ী প্রতিষ্ঠান হয়ে উঠবে, যা আগামী কয়েক দশক ধরে বাংলা সিনেমার ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে পথ দেখাবে। মহানায়ক উত্তম কুমারের চিরসবুজ স্মৃতি এবং তাঁর অমর অবদানকে অটুট রেখেই এই প্রতিষ্ঠানটি ভবিষ্যতে বাংলা চলচ্চিত্র জগতের অন্যতম প্রধান স্তম্ভ হয়ে উঠবে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।