একবিংশ শতাব্দীতেও কুসংস্কারের চরম নিদর্শন! ঝাড়খণ্ডের হাজারিবাগে নিজের ১৩ বছরের কন্যা সন্তানকে ‘নরবলি’ দেওয়ার অভিযোগে গ্রেফতার করা হলো গর্ভধারিণী মা, তাঁর প্রেমিক এবং এক মহিলা তান্ত্রিককে। গত ২৪ মার্চ রামনবমীর রাতে কুসুম্ভা গ্রামে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ডটি ঘটে।
পুলিশি তদন্তে জানা গেছে, ধৃত মা গত তিন মাস ধরে শান্তি দেবী নামে এক তান্ত্রিকের সংস্পর্শে ছিলেন। ওই তান্ত্রিক মহিলা তাঁকে বুঝিয়েছিলেন যে, ছেলের অসুস্থতা এবং পরিবারের চরম দুর্দশা কাটাতে হলে কোনও “কুমারী মেয়ে”কে বলি দেওয়া আবশ্যক। অন্ধবিশ্বাসে অন্ধ হয়ে ওই মা নিজের মেয়েকেই বলির জন্য বেছে নেন। পরিকল্পনামতো দুর্গাষ্টমীর রাতে মেয়েকে পুজোর কথা বলে নির্জন বাঁশঝাড়ে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে মা নিজে মেয়ের পা চেপে ধরেন এবং তাঁর প্রেমিক ভীম রাম কিশোরীটিকে শ্বাসরোধ করে খুন করে। তান্ত্রিকের নির্দেশমতো রক্ত সংগ্রহের জন্য নাবালিকার ওপর অকথ্য শারীরিক নির্যাতনও চালানো হয়।
প্রাথমিকভাবে মা নিজে থানায় অপহরণের নাটক করলেও, ঝাড়খণ্ড পুলিশের বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) জেরা করতেই বেরিয়ে আসে আসল সত্য। ধৃত প্রেমিক ভীম রামের বিরুদ্ধে আগেও খুনের অভিযোগ ছিল। বিজ্ঞানের যুগে দাঁড়িয়ে এমন তান্ত্রিক তুকতাকের নামে নিজের সন্তানকে খুনের ঘটনায় স্তম্ভিত গোটা দেশ। পুলিশ বর্তমানে তিন অভিযুক্তকেই জেল হেফাজতে পাঠিয়েছে।





