সুপ্রিম কোর্টের এক ঐতিহাসিক রায়ে ১২ বছরের দীর্ঘ যন্ত্রণার অবসান হতে চলেছে। নিষ্কৃতিমৃত্যু বা ‘প্যাসিভ ইউথানেশিয়া’ (Passive Euthanasia)-র অনুমতি পাওয়ার পর এক আবেগঘন প্রতিক্রিয়ায় ফেটে পড়লেন এক হতভাগ্য পিতা। দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় ধরে বিছানায় শয্যাশায়ী, সংজ্ঞাহীন ছেলের কষ্ট সহ্য করতে না পেরে তিনি নিজেই আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। রায়ের পর তিনি বলেন, “পৃথিবীর কোনও পিতা তার ছেলের জন্য মৃত্যু কামনা করে না, কিন্তু এই নরকযন্ত্রণা থেকে ওর মুক্তি পাওয়াটাই এখন পরম প্রাপ্তি।”
চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় যাকে ‘পারসিস্টেন্ট ভেজিটেটিভ স্টেট’ বলা হয়, সেই অবস্থাতেই গত ১২ বছর ধরে পড়ে ছিলেন ওই যুবক। কোনও সাড়া নেই, নেই কোনও নড়াচড়া— কেবল মেশিনের সাহায্যে ধুঁকছিল প্রাণটুকু। সুপ্রিম কোর্ট সবদিক বিবেচনা করে অবশেষে লাইফ সাপোর্ট সিস্টেম সরিয়ে নেওয়ার অনুমতি দিয়েছে। এই নির্দেশ শোনার পর ওই বাবা জানান, প্রতিদিন তিলে তিলে মরতে দেখার চেয়ে একবারে বিদায় জানানো অনেক বেশি যন্ত্রণাময় হলেও এটাই ছিল একমাত্র পথ। বাবার এই হাহাকার আজ দেশের বিচারবিভাগ এবং মানবিকতাকে এক কঠিন প্রশ্নের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দিয়েছে।