সাফল্য কেবল প্রতিভায় আসে না, তার পেছনে থাকে অনেক না বলা আত্মত্যাগ। বিহারের গোপালগঞ্জের এক সাধারণ পরিবারের ছেলে সাকিব হুসেনের গল্পটাও ঠিক তেমনই। আজ যখন তিনি কোটি টাকার আইপিএল (IPL) ফ্র্যাঞ্চাইজিতে নিজের জায়গা পাকা করেছেন বা বড় মঞ্চে গতির ঝড় তুলছেন, তখন ফিরে তাকালে দেখা যায় এক লড়াকু মায়ের অসামান্য ত্যাগের কাহিনি।
মায়ের সোনার গয়না বনাম ছেলের স্বপ্ন: সাকিবের ক্রিকেটের প্রতি প্যাশন ছোটবেলা থেকেই ছিল প্রবল। কিন্তু অভাবের সংসারে দামী ক্রিকেট সরঞ্জাম বা ভালো মানের একজোড়া স্পাইক জুতো কেনা ছিল বিলাসিতার সমান। সাকিব যখন প্র্যাকটিসের জন্য জুতোর অভাবে ধুঁকছিলেন, তখন এগিয়ে আসেন তাঁর মা। নিজের গয়না বন্ধক রেখে বা বিক্রি করে ছেলের হাতে তুলে দিয়েছিলেন সেই কাঙ্ক্ষিত জুতো। মায়ের সেই আত্মত্যাগ সাকিবের জেদকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছিল।
অভাবকে হার মানানো লড়াই: সাকিবের বাবা একজন সাধারণ দিনমজুর হিসেবে কাজ করতেন। ঘরে নুন আনতে পান্তা ফুরোনোর দশা। সাকিব নিজেও জানতেন, তাঁর কাছে ব্যর্থ হওয়ার কোনো বিকল্প নেই। বিহার থেকে উঠে আসা এই পেসারকে শুরুর দিকে অনেক তাচ্ছিল্য সইতে হলেও নিজের গতি আর সুইং দিয়ে নির্বাচকদের নজর কাড়েন তিনি।
সাফল্যের শিখরে সাকিব: আইপিএল নিলামে যখন তাঁর নাম উঠল এবং বড় ফ্র্যাঞ্চাইজি তাঁকে দলে নিল, তখন সাকিবের চোখে জল। তিনি জানেন, এই সাফল্যের প্রতিটি সুতোয় জড়িয়ে আছে তাঁর মায়ের চোখের জল আর আশীর্বাদ। আজ সাকিব কেবল বিহারের গর্ব নন, তিনি দেশের হাজার হাজার দারিদ্র্যের সাথে লড়াই করা তরুণ ক্রিকেটারের অনুপ্রেরণা।
পেশাদার এডিটোরিয়াল নোট: সাকিব হুসেনের এই উত্থান প্রমাণ করে যে, সুযোগ পেলে এবং পরিবারের অকুন্ঠ সমর্থন থাকলে মাঠের ঘাস থেকে তারার আকাশ ছোঁয়া সম্ভব। মায়ের সেই বিক্রি করা গয়না আজ সাকিবের সাফল্যের উজ্জ্বলতায় হিরের মতো জ্বলজ্বল করছে।





