২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের রণদামামা বাজার ঠিক আগেই রাজ্যে কয়লা ও বালি পাচারকাণ্ডে বড়সড় সাফল্য পেল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)। সোমবার সল্টলেকের সিজিও কমপ্লেক্সে দীর্ঘক্ষণ জিজ্ঞাসাবাদের পর গ্রেফতার করা হয়েছে কয়লা মাফিয়া চিন্ময় মণ্ডল এবং তাঁর ভাগ্নে তথা বালি পাচারের অন্যতম পান্ডা কিরণ খাঁ-কে। মামা-ভাগ্নের এই গ্রেফতারি রাজ্যে অবৈধ খনিজ পাচারের শিকড় উপড়ে ফেলার পথে একটি বড় পদক্ষেপ বলে মনে করছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা।
পুরুলিয়ার বাসিন্দা চিন্ময় মণ্ডলের দুর্গাপুর সিটি সেন্টারের অম্বুজা নগরী ও বিধাননগরে একাধিক অফিস রয়েছে। তাঁর ভাগ্নে কিরণ খাঁ রানিগঞ্জের বাসিন্দা। ইডি সূত্রের দাবি, আসানসোল ও দুর্গাপুর মহকুমাকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে এক বিশাল পাচার সিন্ডিকেট চালাতেন এই দু’জন। অবৈধভাবে কয়লা ও বালি উত্তোলন থেকে শুরু করে কালোবাজারে তা সরবরাহের পুরো নেটওয়ার্কটি এঁদের ইশারায় চলত।
তদন্তে উঠে এসেছে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। অবৈধ কারবার থেকে আসা কোটি কোটি টাকার লেনদেন হতো সম্পূর্ণ নগদে। পরে সেই কালো টাকা সাদা করতে একাধিক শেল কোম্পানি ও বেনামি অ্যাকাউন্টের সাহায্য নেওয়া হতো। এর আগে চিন্ময় ও কিরণের বিভিন্ন ঠিকানায় তল্লাশি চালিয়ে বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ, ডিজিটাল ডিভাইস এবং পাচার সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ নথি উদ্ধার করেছিল ইডি। সেই তথ্যের ভিত্তিতেই সোমবার তাঁদের সিজিও কমপ্লেক্সে তলব করা হয়েছিল। দীর্ঘ জেরায় বয়ানে অসঙ্গতি মেলায় শেষ পর্যন্ত দু’জনকে গ্রেফতারের সিদ্ধান্ত নেন তদন্তকারীরা।
ইডি-র সন্দেহ, এই সিন্ডিকেটের নেপথ্যে প্রভাবশালী ব্যক্তি ও রাঘববোয়ালদের যোগসাজশ রয়েছে। ধৃতদের নিজেদের হেফাজতে নিয়ে সেই রাঘববোয়ালদের নাম জানতে মরিয়া কেন্দ্রীয় গোয়েন্দারা। নির্বাচনের আগে এই জোড়া গ্রেফতারি রাজ্য রাজনীতিতে যে বড়সড় কম্পন তৈরি করবে, তা বলাই বাহুল্য।