সমুদ্রের নিচে শত্রুর মৃত্যুঘণ্টা বাজাতে তৈরি ‘মাংরোল’! ভারতীয় নৌসেনায় যুক্ত হলো মারাত্মক এক যুদ্ধজাহাজ

উপকূলবর্তী সমুদ্রে শত্রু সাবমেরিনের যেকোনো ধরনের গোপন গতিবিধি রুখতে এবং জলসীমার নিরাপত্তাকে সম্পূর্ণ দুর্ভেদ্য করতে নিজেদের শক্তি এক ধাক্কায় বহু গুণ বাড়িয়ে নিল ভারতীয় নৌবাহিনী। সোমবার মুম্বইয়ের নেভাল ডকইয়ার্ডে এক জমকালো ও মর্যাদাপূর্ণ অনুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে নৌবাহিনীতে কমিশন লাভ করল সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি অত্যাধুনিক অ্যান্টি-সাবমেরিন রণতরী ‘মাংরোল’। ওয়েস্টার্ন নেভাল কমান্ডের ফ্ল্যাগ অফিসার কমান্ডিং-ইন-চিফ ভাইস অ্যাডমিরাল সঞ্জয় বাৎসায়নের উপস্থিতিতে এই তৃতীয় অ্যান্টি-সাবমেরিন ওয়ারফেয়ার শ্যালো ওয়াটার ক্রাফটটি (ASW-SWC) আনুষ্ঠানিকভাবে তার নতুন সমুদ্র যাত্রা শুরু করল। গুজরাটের জুনাগড় জেলার ঐতিহাসিক উপকূলবর্তী ঐতিহ্যবাহী মৎস্য বন্দর মাংরোলের নামানুসারে নামাঙ্কিত এই যুদ্ধজাহাজটি মূলত ২০০৪ সাল পর্যন্ত দেশের সেবা করা প্রাক্তন মাইনসুইপার ‘আইএনএস মাংরোল’-এর গৌরবময় ইতিহাসকে নতুন রূপে এগিয়ে নিয়ে যাবে।
সমুদ্রের উপকূলবর্তী অগভীর এলাকাগুলিতে যেখানে বিশাল আকারের ভারী যুদ্ধজাহাজগুলি সহজে প্রবেশ করতে পারে না বা পরিচালনা করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ে, ঠিক সেখানেই মোক্ষম ও মারাত্মক ভূমিকা গ্রহণ করবে এই নতুন রণতরী। কোচি শিপইয়ার্ড লিমিটেডে অত্যন্ত নিখুঁতভাবে তৈরি এই অ্যান্টি-সাবমেরিন ক্রাফটটি প্রায় ৮০ শতাংশেরও বেশি দেশীয় যন্ত্রাংশে সজ্জিত, যা প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে ভারতের ‘আত্মনির্ভর ভারত’ সংকল্পের এক অসামান্য ও উজ্জ্বল নিদর্শন। তিনটি অত্যন্ত শক্তিশালী ডিজেল ইঞ্জিন এবং আধুনিক ওয়াটারজেট প্রপালশন প্রযুক্তির সাহায্যে পরিচালিত হওয়ায় এটি উপকূলের অগভীর জলেও অবিশ্বাস্য দ্রুততা ও কৌশলে সচল থাকতে সক্ষম। দেশের সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ বন্দর, পোতাশ্রয় এবং উপকূলবর্তী প্রবেশপথগুলিকে শত্রুর আন্ডারওয়াটার বা আন্ডারসি হামলা থেকে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা প্রদান করতে এটি নৌবাহিনীর অন্যান্য বড় রণতরী, সাবমেরিন, নজরদারি বিমান ও যুদ্ধ বিমানবাহী হেলিকপ্টারের সঙ্গে নিখুঁত সমন্বয় রেখে কাজ করবে।
জলের নিচে লুকিয়ে থাকা যেকোনও গোপন হুমকিকে মুহূর্তের মধ্যে সনাক্ত করে তা ধ্বংস করে দেওয়ার মতো বিধ্বংসী ও প্রাণঘাতী অস্ত্রে সাজানো হয়েছে এই যুদ্ধজাহাজটিকে। এতে সংযুক্ত রয়েছে অত্যাধুনিক ‘অভয়’ হুল-মাউন্টেড সোনার, মারাত্মক ক্ষমতার হালকা ওজনের টর্পেডো, সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি অ্যান্টি-সাবমেরিন রকেট লঞ্চার এবং শত্রুপক্ষের ছোঁড়া টর্পেডোকে মুহূর্তে পথভ্রষ্ট করে ধ্বংস করে দেওয়ার ক্ষমতাসম্পন্ন সর্বাধুনিক ‘মারীচ’ অ্যাডভান্সড ডিকয় সিস্টেম। সমুদ্রতলে সার্বক্ষণিক নজরদারি চালানোর পাশাপাশি সামুদ্রিক খনি নিষ্কাশন বা মাইন মোকাবিলার মতো জটিল কাজগুলোতেও এটি সমানভাবে পারদর্শী। সাম্প্রতিক সময়ে ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে যখন প্রতিপক্ষ দেশগুলির সাবমেরিন ও নজরদারি জাহাজের আনাগোনা ক্রমাগত বাড়ছে, ঠিক সেই আবহেই ‘মাংরোল’-এর নৌবাহিনীতে পদার্পণ ভারতের জলসীমার নিরাপত্তাকে অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে দিল।