ছত্তীসগড় ট্রেন দুর্ঘটনায় ‘ভয়ঙ্কর গাফিলতি’র ইঙ্গিত! কেন ব্রেক কষলেন না চালক? ১৯ রেলকর্মীকে জিজ্ঞাসাবাদ

ছত্তীসগড়ের বিলাসপুরে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনার পর গাফিলতির একাধিক ভয়ঙ্কর ইঙ্গিত উঠে এসেছে। মঙ্গলবারের এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ১১ জন এবং আহত হয়েছেন ২০ জনেরও বেশি যাত্রী। রেলের প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে দুর্ঘটনার একাধিক সম্ভাব্য কারণ, যার কেন্দ্রে রয়েছে চালকের ভুল এবং সিগন্যাল উপেক্ষা করা।
গতোরা রেলস্টেশনের কাছে লালখদন এলাকায় করবা-বিলাসপুর মেমু যাত্রীবাহী ট্রেনটি একটি দাঁড়িয়ে থাকা মালগাড়িকে সজোরে ধাক্কা মারে। ধাক্কা এতটাই ভয়াবহ ছিল যে মেমু ট্রেনের কোচগুলো দুমড়ে মুচড়ে গিয়ে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়।
চালক কেন থামেননি?
রেল সূত্রে জানা গেছে, মেমু ট্রেনটি পর পর দু’টি হলুদ সিগন্যাল (গতি কমানোর নির্দেশ) এবং চূড়ান্ত লাল সিগন্যাল (থামার নির্দেশ) উপেক্ষা করেছিল। গতোরা স্টেশন থেকে ৭৬ কিমি গতিতে ছাড়লেও, লাল সিগন্যালের পরও ট্রেনটি থামেনি। মাত্র কয়েক মুহূর্তের মধ্যেই প্রায় ৫০ কিমি গতিতে ট্রেনটি গিয়ে মালগাড়িকে ধাক্কা মারে।
অনভিজ্ঞতাই কি কাল হলো?
তদন্তে জানা গেছে, দুর্ঘটনার সময় মেমু ট্রেনের চালক বিদ্যাসাগর মাত্র এক মাস আগে যাত্রীবাহী ট্রেন চালানোর দায়িত্ব পেয়েছিলেন। তাঁর এই অভিজ্ঞতার অভাবই ভুল সিগন্যাল বোঝার কারণ হতে পারে বলে অনুমান করা হচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছে, বাঁকা লাইনের কারণে তিনি পাশের লাইনের সিগন্যালকে নিজের লাইনের সিগন্যাল বলে ভুল করেন, যা এই প্রাণঘাতী ঘটনার জন্ম দেয়। দুর্ঘটনায় চালক বিদ্যাসাগরের মৃত্যু হয়েছে এবং গুরুতর আহত তাঁর সহকারী রশ্মি রাজ এখন হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন।
বৃহস্পতিবার থেকে কমিশনার অফ রেলওয়ে সেফটি (CRS) ব্রজেশ কুমার মিশ্রের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের দল তদন্ত শুরু করেছে। তাঁরা ইতিমধ্যেই সহকারী চালক, মালগাড়ির গার্ড, মেমু ম্যানেজার এবং সিগন্যাল সংক্রান্ত মোট ১৯ জন রেলকর্মীকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছেন। এই বিস্তারিত রিপোর্ট দ্রুতই রেল বোর্ডে জমা দেওয়া হবে।