ছট পুজোর মহাভিড়, রেকর্ড ১২,০০০ স্পেশাল ট্রেন চালাবে রেল, বাড়ি ফেরা নিয়ে জরুরি ঘোষণা!

বাঙালির দুর্গাপূজা শেষে এবার পালা ছট পূজার। এই উৎসবের মরশুমে ঘরমুখী মানুষের ভিড় সামাল দিতে ভারতীয় রেল এক যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নিয়েছে। যাত্রীরা যাতে সময় মতো নিজেদের গ্রামে ও বাড়িতে পৌঁছাতে পারেন, তা নিশ্চিত করতে দেশজুড়ে ১২,০০০-এরও বেশি বিশেষ ট্রেন (Special Train) চালানোর ঘোষণা করেছে রেলওয়ে।রেলওয়ে আরও জানিয়েছে, ছট পূজার প্রবল চাহিদা মাথায় রেখে আগামী দিনগুলিতে প্রায় ৮,০০০ অতিরিক্ত বিশেষ ট্রেন পরিচালনা করা হবে। এই পদক্ষেপ শুধু দূরপাল্লার যাত্রীদের স্বস্তি দেবে না, জনাকীর্ণ রুটগুলির উপর চাপও অনেকটাই কমাবে।রেলমন্ত্রীর ‘সারপ্রাইজ ভিজিট’: যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে নিলেন বৈষ্ণবএই উৎসবের মরশুমে প্রস্তুতির দিকটি ব্যক্তিগতভাবে খতিয়ে দেখতে মাঠে নেমেছেন খোদ রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় তিনি নয়াদিল্লি রেলওয়ে স্টেশন (New Delhi Railway Station) পরিদর্শনে পৌঁছান।সেখানে তিনি যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের সুবিধা-অসুবিধা সম্পর্কে মতামত নেন। রেলমন্ত্রী বলেন, “যাত্রীদের নিরাপদ, সুবিধাজনক এবং সহজ ভ্রমণ নিশ্চিত করতে রেলওয়ে পূর্ণ ক্ষমতা নিয়ে কাজ করছে। আমাদের লক্ষ্য প্রতিটি যাত্রীকে ঝামেলামুক্ত যাত্রা নিশ্চিত করা। রেল কর্মীরা ২৪/৭ কর্তব্যরত আছেন।”অক্টোবরে ১ কোটিরও বেশি যাত্রী ভ্রমণ করেছেনভারতীয় রেলের তথ্য অনুযায়ী, ১ অক্টোবর থেকে ১৯ অক্টোবর পর্যন্ত ৩,৯৬০টি বিশেষ ট্রেনের মাধ্যমে ১ কোটিরও বেশি যাত্রী পরিবহন করা হয়েছে। উৎসবের মরশুমে এই ট্রেনগুলি যাত্রীদের জন্য এক বিশাল স্বস্তি এনে দিয়েছে।বিশেষত, ১৬ থেকে ১৯ অক্টোবরের মধ্যে দিল্লি অঞ্চলের প্রধান স্টেশনগুলি (নয়াদিল্লি, আনন্দ বিহার, হযরত নিজামুদ্দিন, দিল্লি এবং শকর বস্তি) থেকে ১৫.১৭ লক্ষ যাত্রী ভ্রমণ করেছেন। এটি গত বছরের তুলনায় ১১% বৃদ্ধি, যা উৎসবের মরশুমে রেল পরিষেবার উপর নির্ভরতা স্পষ্ট করে।কোন অঞ্চলে সবচেয়ে বেশি বিশেষ ট্রেন?কোন রেলওয়ে জোনগুলিতে সবচেয়ে বেশি বিশেষ ট্রেন চলছে, তার একটি তালিকা প্রকাশ করেছে ভারতীয় রেল:রেলওয়ে জোনবিশেষ ট্রেনের সংখ্যামধ্য রেলওয়ে১,৯৯৮টিউত্তর রেলওয়ে১,৯১৯টিপশ্চিম রেলওয়ে১,৫০১টিপূর্ব মধ্য রেলওয়ে১,২১৭টিউত্তর পশ্চিম রেলওয়ে১,২১৭টিস্টেশনগুলিতে সুযোগ-সুবিধা দ্বিগুণ: যাত্রীদের জন্য নতুন ব্যবস্থাযাত্রীদের আরামদায়ক ভ্রমণ নিশ্চিত করতে দেশের প্রধান স্টেশনগুলিতে বেশ কয়েকটি নতুন ব্যবস্থা বাস্তবায়ন করা হয়েছে। অতিরিক্ত টিকিট কাউন্টার এবং অপেক্ষা অঞ্চল তৈরি করা হয়েছে। পানীয় জল ও পরিষ্কার শৌচাগারের ব্যবস্থা উন্নত করা হয়েছে। ট্রেনের সময় প্রদর্শন ব্যবস্থা (ডিসপ্লে) আপডেট করা হয়েছে এবং প্ল্যাটফর্ম ব্যবস্থাপনা ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার উপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে।রেলমন্ত্রী জানিয়েছেন, যাত্রীদের নিরাপত্তা সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। সমস্ত জোনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, কোনও যাত্রী যেন কোনও সুবিধা থেকে বঞ্চিত না হন। জনাকীর্ণ স্টেশনগুলিতে নিরাপত্তা বাড়াতে আরপিএফ (RPF), জিআরপি (GRP) এবং রেল কর্মীরা ঘন ঘন টহল দিচ্ছেন। খাবারের মান, স্বাস্থ্যবিধি এবং ট্র্যাফিক প্রবাহ নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।ভারতীয় রেলওয়ের ১.২ মিলিয়নেরও বেশি কর্মী এই উৎসবের মরশুমে দিনরাত এক করে যাত্রীদের পরিষেবা দিতে প্রস্তুত। টিকিট কাটা থেকে ট্রেন পরিষ্কার, প্ল্যাটফর্ম ব্যবস্থাপনা—সব ক্ষেত্রেই পরিষেবাগুলি দ্রুত গতিতে সরবরাহ করা হচ্ছে।