যাদবপুরের দেওয়ালে মাওবাদীদের সমর্থনে উস্কানিমূলক লেখা! কড়া বার্তা দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী কী বললেন?

স্বাধীন ভারতের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তায় একসময় যে মাওবাদী হিংসা ও সন্ত্রাস রক্তের দাগ ফেলেছিল, সেই নিষিদ্ধ শক্তির সমর্থনে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের (Jadavpur University) অন্দরে দেওয়াল লিখন ঘিরে বর্তমানে রাজ্য রাজনীতিতে চরম উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। একসময়ে বহু সাধারণ গ্রামবাসীর প্রাণ কেড়ে নেওয়া এবং পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যকে সরাসরি খুনের ছক কষা কুখ্যাত মাওবাদী নেতা কিষেনজির (Kishenji) সমর্থনে খাস ক্যাম্পাসের দেওয়ালে স্লোগান ও গ্রাফিতি নজরে আসতেই তীব্র প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে। সংসদীয় গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে অস্ত্র তুলে নেওয়া এবং দেশের সার্বভৌমত্বকে চ্যালেঞ্জ জানানো এই উগ্র বামপন্থী শক্তির পক্ষে এমন প্রচার দেখেই প্রশ্ন উঠছে যে, তবে কি মুক্তচিন্তার এই আঁতুড়ঘরে ফের মাথাচাড়া দিচ্ছে দেশবিরোধী উপাদান? যদিও এই ঘটনার পর অতি-বাম ও মূলস্রোতের বাম ছাত্র সংগঠনগুলির মধ্যকার আদর্শগত দূরত্ব এবং মতান্তর ফের প্রকাশ্যে চলে এসেছে।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং ডিপার্টমেন্টের সামনের একটি বিশাল দেওয়ালে স্পষ্টাক্ষরে লেখা রয়েছে “লং লিভ কিষেনজি”। যদিও এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের বহু সাধারণ পড়ুয়া এবং বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের কর্মীরা দাবি তুলেছেন যে, অবিলম্বে এই ধরনের রাষ্ট্রবিরোধী স্লোগান মুছে ফেলা হোক এবং এর নেপথ্যে থাকা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হোক। সাধারণ ছাত্রছাত্রীদের একটি বড় অংশের মতে, প্রতিবাদ করার সাংবিধানিক অধিকার সকলেরই রয়েছে এবং ক্যাম্পাসে বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে মতপ্রকাশ স্বাভাবিক, কিন্তু মাওবাদীদের মতো রক্তপিপাসু সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর গুণগান গাওয়া বা দেশবিরোধী স্লোগান দেওয়া বাকস্বাধীনতার মধ্যে পড়ে না।

উল্লেখ্য, দেশের বিভিন্ন প্রান্তে দীর্ঘদিন ধরে রক্তাক্ত সংঘাত চালিয়ে যাওয়া এই মাওবাদীরা বহু নিরপরাধ মানুষ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জওয়ানদের হত্যা করেছে। এমনকি দেশের জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মতো পবিত্র জাতীয় বিষয় নিয়েও তারা একাধিকবার সাধারণ মানুষের ওপর অকথ্য অত্যাচার চালিয়েছে। এমতাবস্থায় খোদ একটি প্রথম সারির বিশ্ববিদ্যালয়ের চত্বরে এমন দেওয়াল লিখন মুক্তচিন্তা ও দেশবিরোধিতার মধ্যকার সূক্ষ্ম সীমারেখাটাকে গুলিয়ে দিচ্ছে কি না, তা নিয়ে সমাজবিজ্ঞান ও রাজনৈতিক মহলে তীব্র আলোচনা শুরু হয়েছে।

এদিকে গোটা পরিস্থিতি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে রাজ্য প্রশাসনের শীর্ষস্তর থেকে কড়া বার্তা দেওয়া হয়েছে। এই প্রসঙ্গে প্রশাসনের শীর্ষকর্ণ তথা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন যে, আর্টস ডিপার্টমেন্টের বয়েজ হোস্টেল চত্বরে এই ধরনের আপত্তিকর ও রাষ্ট্রবিরোধী দেওয়াল লিখনের সমস্ত বিশদ রিপোর্ট হাতে এসে পৌঁছেছে। তিনি দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরের পবিত্র শিক্ষাঙ্গনকে কোনো অবস্থাতেই দেশবিরোধী মতাদর্শ বা উগ্রপন্থী ভাবনা প্রচারের উর্বর ক্ষেত্র হিসেবে ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না। অপরাধীদের বিরুদ্ধে খুব শীঘ্রই যথাযথ আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে প্রশাসনের তরফে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।